বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িত প্রত্যেকেই চিকিৎসক

চিকিৎসক' শব্দের অর্থ- যিনি চিকিৎসা করেন, অর্থাৎ যিনি রোগের নিরাময়, রোগ নির্ণয়, পূর্বাভাস এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করেন। চিকিৎসক সমার্থক শব্দ ডাক্তার, হাকিম, বৈদ্য, ভিষক ও কবিরাজ। "চিকিৎসক" শব্দের ইংরেজি হলো physician, medical practitioner, medical doctor বা শুধু doctor। এই শব্দগুলো স্বাস্থ্য পেশাদারদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

অর্থগত ও সমার্থকগত ভাবে ডাক্তার, দাকতুর, মেডিকাস' (Medicus) বা 'ইয়াট্রোস' (Iatros), হাকিম, কবিরাজ, বৈদ্য ও ভিষক এর মাধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তাছাড়া কর্মগতভাবেও হাকিম, কবিরাজ, বৈদ্য, ডাক্তুর ও ভিষক পেশাদার ব্যক্তিরা চিকিৎসাশাস্ত্রের অনুশীলন করেন এবং মানুষের রোগ, আঘাত বা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার নিরাময় ও স্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করেন।

তাছাড়াও চিকিৎসক সমার্থক শব্দের মাধ্যে বৈদ্য, ভিষক, চিকিৎসক শব্দ দ্বারা স্বাস্থ্য পেশাদারদের কথা বলা হয়। কিন্তু ডাক্তার শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বুঝা যায়। ডাক্তার শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করলে দেখা যায়, Doctor ল্যাটিন শব্দ "docēre" থেকে "doctor" শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ "শিক্ষাদান করা" বা "শিক্ষক"। ১৩শ শতাব্দীতে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা শিক্ষা দিতেন, তাদের এই উপাধিতে ভূষিত করা হতো, যাদেরকে "ডক্টরেট" বা "ডক্টরস" বলা হত। এছাড়া প্রাথমিক খ্রিস্টান গির্জায় যারা ধর্মতত্ত্ব ও বাইবেল ব্যাখ্যা করতেন, তাদেরকেও "ডক্টর" বলা হত। সময়ের সাথে সাথে "ডাক্তার" উপাধিটি শুধুমাত্র শিক্ষাবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারী ও অনুশীলনের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদারদের জন্যও ব্যবহৃত হতে থাকে। কিছু সম্মানীয় পেশায় (যেমন, ডক্টর অফ ফিলোসফি) "ডক্টর" শব্দটি একাডেমিক সম্মান বা উপাধি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেখানে এর অর্থ সরাসরি চিকিৎসকের পেশার সাথে যুক্ত নয়। একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাকে "ডক্টর" বলা হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে, যখন বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছিল , তখন থেকে এটি ইউরোপে একটি একাডেমিক উপাধি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর , এই ব্যবহার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। "ডক্টর" বা "ডক্টর" সংকুচিত করে, এটি এমন একজন ব্যক্তির জন্য একটি উপাধি হিসাবে ব্যবহৃত হয় যিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অতীতে, এই শব্দটি যেকোনো শিক্ষিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলেও
বর্তমানে 'ডাক্তার' (Doctor) শব্দটির দুটি প্রধান অর্থে ব্যবহ্নত হয়। প্রথমত- এটি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারকে বোঝায়, যিনি রোগের চিকিৎসা করেন। দ্বিতীয়ত, এটি একটি অ্যাকাডেমিক উপাধি, যা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেছেন এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যেমন পিএইচডি (PhD) ডিগ্রিধারীকে বোঝানো হয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে, এই শব্দটি ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের বোঝাতে ব্যবহৃত হত, যেমন দেবত্ব, আইন বা ওষুধের ক্ষেত্রে ডিগ্রিধারীরা।

চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িতদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে অবহিত করা হয়। প্রাচীনকালে চিকিৎসক বা চিকিৎসা প্রদানকারীদের 'মেডিকাস' (Medicus) বা 'ইয়াট্রোস' (Iatros) নামে ডাকা হতো, যেখানে 'মেডিকাস' ছিল গ্রিক ও রোমান শব্দ আর 'ইয়াট্রোস' ছিল প্রাচীন গ্রিক শব্দ, যার অর্থ 'নিরাময়ক' বা 'চিকিৎসক'। প্রাচীনকালে চিকিৎসা সেবা দানকারী বা সর্বজ্ঞদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ তাদেরকে মৈথালী ভাষায় কবিরাজ বা মহাপন্ডিত বলা হতো। এবং মধ্যযুগে চিকিৎসা পদ্ধতি'র চিকিৎসকদের হেকিম। এবং সংস্কৃত ভাষায় চিকিৎসকদের বৈদ্য বা ভিষক বলা হতো। ঠিক তদ্রূপভাবে আধুনিক ভাষায় ডাক্তার বলা হয়।

চিকিৎসকের আরবি প্রতিশব্দ হল طَبِيب (তাবীব)।এটি একটি সাধারণ শব্দ যা ডাক্তার বা চিকিৎসককে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ কোন চিকিৎসককে যেমন হাকীমুত তিব্ব বলা যায়না। কারণ হাকীমুত তিব্ব হতে হলে কয়েকটি বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। হাকীম শব্দটি কিন্তু সেকেলে নয় আর ডাক্তার শব্দটি মর্ডানও নয়। উভয়টি ভিন্ন অর্থবোধক দুটি পরিভাষা। আরবী তবীব শব্দের সঠিক বাংলা হচ্ছে চিকিৎসক আর বাংলা ভাষীরা চিকিৎসককে দাকতুর (ডাক্তার) বলে সম্বোধন করে থাকেন। আর আরবী ভাষীরা আজও বিজ্ঞানীকে হাকীম বলে সম্বোধন করেন।

বাংলাদেশ ইউনানী মেডিকেল এসোসিয়েশন অনুবাদ করা হয়েছে আঞ্জুমানে আতিব্বা বাংলাদেশ থেকে। এখানেও একটি বিষয় লক্ষনীয় যে এ সংগঠনটি জন্মলগ্নে আঞ্জুমানে হুকামা না বলে আঞ্জুমানে আতিব্বা বলা হচ্ছে। আরবী ভাষায় তবীব এবং দাকতুর শব্দ দুটি সমার্থক হলেও স্থানকাল ভেদে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমনি বাংলা ভাষায় চিকিৎসক এবং ডাক্তার স্থান কালভেদে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কালের বিবর্তনে ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন আসে।


যেমন, কাজি' (قاضي) একটি আরবি শব্দ যা قضى অর্থাৎ "বিচার করা" ক্রিয়া থেকে এসেছে। প্রথম দিকে এটি একটি আরবি উপাধি ছিল, যা ইসলামী বিচারকদের বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। মধ্যযুগীয় বাংলায় মুসলিম শাসনের সময়কালে 'কাজি' শব্দটি বাংলায় প্রবেশ করে। এই সময়কালে, কাজী এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি ধর্মীয় ও ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচার করতেন এবং কিছু বিচারবহির্ভূত কাজও (যেমন অভিভাবকত্ব ও এতিমদের তত্ত্বাবধান) করতেন। সময়ের সাথে 'কাজি' শব্দের আরবি ও ইসলামী পরিমণ্ডল থেকে বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ 'বিচারক' তৈরি হয়, যা একটি সাধারণ ও আধুনিক পরিভাষা। 'বিচারক' শব্দটি শুধু আইন বা ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যে কোনো আদালত বা বিচারিক কার্যক্রমে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

ঠিক তেমনিভাবে- এ উপমহাদেশে মোঘল আমলে উচ্চ শিক্ষিত জ্ঞানীদের ‘মোল্লা’ শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা হতো। পরবর্তীতে ইংরেজদের আমলে তার পরিবর্তন করে মৌলভী করা হয়। কালক্রমে তা শুধু মাদ্রাসা শিক্ষিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আলীম উলামাকে মাওলানা ও আল্লামা শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা হতে থাকে। সে যুগের সর্বোচ্চ সম্মানী খেতাব ‘মোল্লা’ শব্দটি আমাদের দেশে আজ কিন্তু অবহেলিত। বর্তমান সমাজে যারা ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজ দিয়ে চিকিৎসা করে তাদেরকে ‘মোল্লা’ শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা হয়ে থাকে। প্রকৃত কোন আলেম উলামাগণকে ‘মোল্লা’ শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা হয় না। আজ বাংলা ভাষায় যেভাবে নতুন নতুন শব্দ সংযোজন করা হচ্ছে সেভাবে আরবী ভাষায়ও নতুন নতুন শব্দ, তবীবের স্থলে দাক্তুর ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে আমাদের দেশে প্রকৃত ইউনানী চিকিৎসকদেরকে ভুল সম্বোধিত হাকীম শব্দের স্থলে মাতৃভাষা দাকতুর বা ডাক্তার লিখে সম্বোধন করা যুগোপযোগী ও সমুচিত হবে।

ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রের ডিপ্লোমাধারী ডিইউএমএস, ডিএএমএস ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকগণ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক প্র্যাকটিশনার্স অর্ডিন্যান্স আইন অনুযায়ী তবীব বা হাকীম ও র্বেদ বা কবিরাজ উপাধি ব্যবহার করে থাকেন। আরবি 'তবীব' শব্দের বাংলা অর্থ 'চিকিৎসক' যিনি ইউনানী চিকিৎসা শাস্ত্রের পন্ডিত। একই ভাবে সংস্কৃত 'র্বেদ' শব্দের বাংলা অর্থ 'চিকিৎসক' যিনি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রের পন্ডিত। সেইসাথে আরবি হেকিম শব্দের অর্থ যেমন ইউনানী ডাক্তার নির্দেশ করে তেমনি মৈথালী ভাষার কবিরাজ শব্দের অর্থ আয়ুর্বেদিক ডাক্তার নির্দেশ করে।

এজন্য ডাক্তার লিখার আগে ইউ. ডা. অথবা নামের শেষে বিইউএমএস/ ডিইউএমএস বোঝা যাবে যে উনি একজন ইউনানী চিকিৎসক। ডাক্তার শব্দের আগে হোমিও ডা. অথবা নামের শেষে বিএইচএমএস/ ডিএইচএমএস বোঝা যায় যে তিনি একজন হোমিও চিকিৎসক। ডাক্তার শব্দের আগে আয়ূ. ডা. অথবা নামের শেষে ডিএএমএস/ বিএএমএস লিখলে বোঝা যায় যে তিনি একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। ডাক্তার শব্দের আগে ভেটেনারী ডা. অথবা নামের শেষে ডিভিএম লিখলে বুঝা যায় যে তিনি পশু ডাক্তার। ঠিক তেমনি বিপিটি/ বিএসসি-পিটি লিখলে বুঝা যায় যে তিনি ফিজিওথেরাপী চিকিৎসক। মনে রাখতে হবে "চিকিৎসক" শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ Doctor। তাই ডাক্তার শব্দটি শুধুমাত্র এমবিবিএস/ বিডিএস'দের মৌরসী সম্পদ নয়।

হামদর্দ দাওয়াখানার নাম পরিবর্তন করে হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ করা হয়েছে। কুরছ/ হাব্ব/ শরবতের পরিবর্তন করে যথাক্রমে ট্যাবেলট/ পিল/ সিরাপ যদি লিখা যায়, তাহলে ইউনানী চিকিৎসকদের নামের শুরুতে সঠিক শব্দ ডাক্তার (দাক্তুর) লিখাতে এত আপত্তি কেন?

প্রত্যেক শাস্ত্রের প্রত্যেক ক্যাটাগরির চিকিৎসকদের মনে রাখতে হবে যে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, নাতো আইন দ্বারা বলবৎকৃত কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। জোর করে কারো উপর আইন চাপিয়ে দেয়া যায় না। আইনের চোখে সবাই সমান।

তাই আসুন এভাবে একে- অপরকে কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে সকল পেশার লোকদের সম্মান দেই, একসাথে মিলেমিশে কাজ করি। আমার প্রয়োজনে আপনি, আপনার প্রয়োজনে আমি এই স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে একে অন্যের সহযোগী হই, তবেই এদেশের স্বাস্থ্যখাতে আরো উন্নয়ন ও সুচিকিৎসা সম্ভব।


হাফিজুল ইসলাম লস্কর
ইউনানী চিকিৎসক, ইসলামী স্কলার, কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

সিলেটের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে People for People Uk- এর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ PEOPLE FOR PEOPLE- Hampshire & Isle of Wight Bengali Community UK কর্তৃক সিলেটের দরিদ্র ১৯০ শিক্ষার্থীদের মাধ্যে শিক্ষা সহায়িকা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান বুধবার (২৩/০৭/২৫) ১১ ঘটিকার সময় অত্র প্রতিষ্ঠানের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপন একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু তাহের-এর সভাপতিত্বে ও People for People এর সেচ্ছাসেবক ডা. আক্তার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর এর প্রবেশন অফিসার তমির হোসেন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদ্দীপন একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক সাহেদারা বেগম।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, People for People এর সেচ্ছাসেবক কবি ও সাহিত্যিক ডা. হাফিজুল ইসলাম লস্কর। শিক্ষা সহায়িকা প্রদান অনুষ্ঠানে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ থেকে তেলাওয়াত করেন, উদ্দীপন একাডেমি, শিবগঞ্জ এর ৬'ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছাব্বির আহমদ।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, People for People এর সেচ্ছাসেবক ডা. মিনহা ছাদিক মান্না, মারজানা বেগম, উদ্দীপন একাডেমির শিক্ষক- আনোয়ার হোসেন লিটন, মহসিন আহমদ, আঞ্জুমান আরা, জমিরুল হক, সৈয়দ নাছিম আহমদ, রাসেল আহমদ, ফাহিমুর রহমান ফাহাদ, আলীম উদ্দীন, কাউছার আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, PEOPLE FOR PEOPLE- Hampshire & Isle Of Wight Bengali Community UK বাঙালি কমিউনিটি এর কার্যকরী কমিটি হলো- Chairperson- Delwar Hussain Baig, Vice Chair: Khaleque Miah, Sanaor miah (Mahmud), Md Sajon Ali, Samsul Haque General Secretary: Zahid Islam, Joint Secretary: Juned Ahmed, Hasnat Tareque, Md Delwar Hussain Sumon, Treasurer. Md Hasan Ahmed, Organizations Secretary: Ashraf Hossain, joint Organizations Secretary: Saif miah, Office secretary. Maria baig, Education and cultural Secretary. Walid Rob Rusho, Press and publication sectary. Kamran Hussen Riyad, Executive Members: Zane Alom, Abdur Rakib Tozomul, Foysol Hussain, Abdul Aziz.

সিলেটের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে People for People Uk- এর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ PEOPLE FOR PEOPLE- Hampshire & Isle of Wight Bengali Community UK কর্তৃক সিলেটের দরিদ্র ১৯০ শিক্ষার্থীদের মাধ্যে শিক্ষা সহায়িকা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান বুধবার (২৩/০৭/২৫) ১১ ঘটিকার সময় অত্র প্রতিষ্ঠানের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপন একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু তাহের-এর সভাপতিত্বে ও People for People এর সেচ্ছাসেবক ডা. আক্তার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর এর প্রবেশন অফিসার তমির হোসেন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদ্দীপন একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক সাহেদারা বেগম।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, People for People এর সেচ্ছাসেবক কবি ও সাহিত্যিক ডা. হাফিজুল ইসলাম লস্কর। শিক্ষা সহায়িকা প্রদান অনুষ্ঠানে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ থেকে তেলাওয়াত করেন, উদ্দীপন একাডেমি, শিবগঞ্জ এর ৬'ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছাব্বির আহমদ।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, People for People এর সেচ্ছাসেবক ডা. মিনহা ছাদিক মান্না, মারজানা বেগম, উদ্দীপন একাডেমির শিক্ষক- আনোয়ার হোসেন লিটন, মহসিন আহমদ, আঞ্জুমান আরা, জমিরুল হক, সৈয়দ নাছিম আহমদ, রাসেল আহমদ, ফাহিমুর রহমান ফাহাদ, আলীম উদ্দীন, কাউছার আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, PEOPLE FOR PEOPLE- Hampshire & Isle Of Wight Bengali Community UK বাঙালি কমিউনিটি এর কার্যকরী কমিটি হলো- Chairperson- Delwar Hussain Baig, Vice Chair: Khaleque Miah, Sanaor miah (Mahmud), Md Sajon Ali, Samsul Haque General Secretary: Zahid Islam, Joint Secretary: Juned Ahmed, Hasnat Tareque, Md Delwar Hussain Sumon, Treasurer. Md Hasan Ahmed, Organizations Secretary: Ashraf Hossain, joint Organizations Secretary: Saif miah, Office secretary. Maria baig, Education and cultural Secretary. Walid Rob Rusho, Press and publication sectary. Kamran Hussen Riyad, Executive Members: Zane Alom, Abdur Rakib Tozomul, Foysol Hussain, Abdul Aziz.

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

গোলাপগঞ্জ সদর যুব ও ছাত্র জমিয়তের কার্যালয় উদ্বোধন, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেটঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন যুব ও ছাত্র জমিয়তের সাংগঠনিক কার্যালয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভা শুক্রবার  (১৬ মে ২০২৫) সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত আলোচনা সভা যুব জমিয়ত ইউনিয়ন সভাপতি হাফিজ মারুফ আহমদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ রাসেল, ইউনিয়ন ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক রোম্মান আহমেদ এর যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত হয়।

কার্যালয় উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুব জমিয়ত বাংলাদেশ গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক. মাওলানা এইচ এম আব্বাস আল মাহমুদ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহ প্রচার সম্পাদক হা. মুফতি রুহুল কুদ্দুস।

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ছাত্র জমিয়ত উপজেলা সহসভাপতি আবু ছালেহ উসমান, বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্র জমিয়তের প্রচার সম্পাদক হাফিজ খুবাইব বিন জামিল।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুব জমিয়ত ইউনিয়ন সহ সাধারন সম্পাদক মাওলানা মুফতি আফজল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ শামসুল করিম প্রমুখ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়তের ইউনিয়ন দায়িত্বশীলবৃন্দ।

সভার শেষে দেশ ও জাতীর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুব জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জাকির আহমদ।

বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫

হবিগঞ্জে পিতার দায়ের কোপে কন্যা নিহত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামে বাবার দায়ের কোপে কিশোরী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ জানুয়ারী) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক পিতার নাম মঈন উদ্দিন। নিহত কিশোরীর নাম রানু বেগম (১৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রানু প্রায় সময়ই মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ছেলের সাথে কথা বলতো। বিষয়টি তার পিতা মঈন উদ্দিন পছন্দ করতেন না। মেয়েকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার দুপুরে ধারালো দা দিয়ে রানুর ঘাড়ে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক পিতাকে আটক করেছে।

নিহত রানু বেগমের মা শাহেদা বেগম জানান, মোবাইলে ছেলেদের সাথে কথা বলার জেরেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে আমার স্বামী। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটক মঈন উদ্দিন থানা হেফাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪

শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন


সিলেট বার কাউন্সিলরের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শামীম আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নব নিযুক্ত government pleaders( জিপি)।

এডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হুদা অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি।

এডভোকেট মামুন আহমদ রিপন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মনোনিত হয়েছেন।

আইন বিচার ও সাংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ সলিসিটর সাক্ষরিত এক আদেশে সরকারী এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে প্রিয় সিনিয়র আইনজীবীদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এবং সেই সাথে তাহাদের উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি।

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

অপসংবাদিকতা রোধে সাংবাদিকদের ডাটাবেজ প্রণয়নে কাজ করছে প্রেস কাউন্সিল



হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেটঃ গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা’ শীর্ষক সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা জেলা প্রশাসন সিলেটের সহযোগিতায় আজ রবিবার (২১ এপ্রিল) সিলেট সার্কিট হাউজ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হোসাইন মো. আল-জুনায়েদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (অতিরিক্ত সচিব) শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সহকারী পুলিশ সুপার মো. সম্রাট তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ কী চায় তা সাংবাদিকদের মনে রেখে কাজ করতে হবে। যাতে আগামী দিনেও মানুষ যেন গণমাধ্যম থেকে উপকৃত হয়। সিলেটের সাংবাদিকরা মর্যাদার সঙ্গে কাজ করছেন। বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের গ্রহনযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সেইসাথে অপসাংবাদিকতার হাত থেকে বাঁচতে নীতিমালাতে আরো অনেক কিছু সংযোজনে প্রেস কাউন্সিল কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে সাংবাদিক সমাজ খুব প্রিয় ছিলেন। এজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গঠন করেন। প্রেস কাউন্সিল জন্মলগ্ন থেকেই সাংবাদিকদের মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূলের সাংবাদিকতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সবসময় আন্তরিক। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আগামীতেও অব্যাহত রেখে সাংবাদিকতার মান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন, অপসংবাদিকতা রোধে সাংবাদিকদের ডাটাবেজ প্রণয়নে প্রেস কাউন্সিল কাজ করছে। সাংবাদিক সমাজ যেন আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য ডাটাবেজ প্রণয়ন আবশ্যক। জনকল্যাণকর সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের অবশ্যই নীতিমালা ও দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে জানতে হবে। সেজন্য প্রেস কাউন্সিল আইনটি যুগোপযোগীকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবেই সাংবাদিকতা মাটি ও মানুষের কাজে আসবে।
এ সময় মুক্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সাধারন সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, সদ্য সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আল আজাদ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরী, মুকিত রহমানি, নাসির উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে আল কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন দৈনিক বিকাল বার্তা'র স্টাফ রিপোর্টার হাফিজুল ইসলাম লস্কর।

গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিলেট জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।