বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটকেন্দ্র দখল: জামায়াতের বিরুদ্ধে নজরুল ইসলাম খানের গুরুতর অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকাঃ

​নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, অর্থ বিতরণ এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সারা দেশে জামায়াতের বিরুদ্ধে অন্তত ১২৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের হাতে এসেছে।

​নজরুল ইসলাম খান বলেন, "জামায়াতের মতো একটি দল যারা নীতির কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের হতাশ করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মীরা আইনবহির্ভূত কাজে লিপ্ত হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন:

  • সৈয়দপুর বিমানবন্দর: এক জামায়াত নেতার কাছে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি এটি ব্যবসার টাকা হলেও নজরুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, "যিনি মাত্র ৩ হাজার টাকা আয়কর দেন, তিনি এত টাকার ব্যবসায়ী হন কীভাবে?"
  • শরীয়তপুর ও সূত্রাপুর: শরীয়তপুরে সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ আটক এক জামায়াত নেতাকে ২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে ভোট কেনার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে সাজা পেয়েছেন সূত্রাপুর থানার এক জামায়াত নেতা।
  • নারায়ণগঞ্জ: জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই নেতার স্ত্রী ছিলেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার।

​নির্বাচন কমিশন সচিবের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা বলেন, ইসি সচিব প্রথমে টাকা পাওয়ার ঘটনাকে 'অন্যায় নয়' বললেও পরে তা অস্বীকার করেছেন। নজরুল ইসলাম খানের মতে, ইসি সচিবের মতো পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া বা গণমাধ্যমের ওপর দায় চাপানো দুঃখজনক।

​বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির কাছে পাওয়া টাকার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ১৩০টি কেন্দ্রের এজেন্টদের খরচের জন্য ওই অর্থ ছিল, যা পরিকল্পিতভাবে বাড়িয়ে প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে টাকা বিতরণের চেষ্টার সময় সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান এনসিপি নেতাকে জনতা প্রতিহত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​সবশেষে তিনি জানান, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের দায়ে ১৩ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই পুরো পরিস্থিতিকে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন