বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাংবাদিকতার আড়ালে ‘কার্ডবাজি’: নির্বাচনের আগে এক কদর্য মহড়া




জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই এ দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো একদল 'সাংবাদিক' গজিয়ে ওঠে। গলায় চকচকে আইডি কার্ড আর হাতে দামি ক্যামেরা, সবই আছে, শুধু নেই সাংবাদিকতার ন্যূনতম জ্ঞান বা নৈতিকতা। এদের মূল লক্ষ্য সংবাদ সংগ্রহ নয়; বরং কার্ডের দাপট দেখিয়ে তদবির, চাঁদাবাজি আর দফারফার মাধ্যমে পকেট গরম করা। এই তথাকথিত সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে আজ মহান এই পেশার মর্যাদা ধূলিসাৎ হতে চলেছে।

​যোগ্যতা যখন ‘আইডি কার্ডে’ সীমাবদ্ধ
​মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনকালীন অনেক সাংবাদিকের হাতে কলম-কাগজ দিয়ে দুই লাইন সংবাদ লিখতে বললে তারা রীতিমতো ‘মৃগী রোগীর’ মতো কাঁপতে শুরু করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পর্যবেক্ষক সেজে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এদের না আছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, না আছে সংবাদের ব্যাকরণ সম্পর্কে ধারণা। অথচ এদের ভিড়েই প্রকৃত সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

​সচিবালয় থেকে ভোটকেন্দ্র: সবখানেই দালালি অভিযোগ রয়েছে, শুধু নির্বাচনের মাঠ নয়, পিআইডি (PID) কার্ড ব্যবহার করে একদল ব্যক্তি সচিবালয় বা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি ও তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। জমি দালালি থেকে শুরু করে নিয়মিত মাসোহারা তোলা পর্যন্ত, সবই চলে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে।

অতীতে দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষ নিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, ‘রাতারাতি ভোটের দিন’ এখন অতীত, তবে এই অপশক্তি এখনও সক্রিয়।

​প্রশাসনের ভূমিকা ও পেশাদারিত্ব যাচাই
​নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় শুধু আইডি কার্ড যাচাই করাই এখন যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি, ভোটকেন্দ্রে সন্দেহভাজন কার্ডধারীদের পেশাগত দক্ষতা যাচাই করা হোক। তাৎক্ষণিক পরীক্ষা: সন্দেহভাজনদের প্রয়োজনে স্পটেই সংবাদ লিখতে বলা যেতে পারে। যারা অক্ষম, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা জরুরি।

​জিরো টলারেন্স: পিআইডি কার্ডের অপব্যবহার রোধে তথ্য মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। পেশাদার সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ‘আগাছা’ পরিষ্কার করা এখন সময়ের দাবি।

​সাংবাদিকতা কোনো ধান্দাবাজির পুঁজি হতে পারে না। এটি একটি দায়বদ্ধতার জায়গা। অশিক্ষিত ও নীতিহীন চক্রের কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগাছা পরিষ্কার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব। এই ‘ভুয়া’ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য এখনই না রুখলে সাংবাদিকতার মর্যাদা ও অবাধ নির্বাচনের স্বপ্ন, উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে।

হাফিজুল ইসলাম লস্কর
স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক-বিএমএসএস।
সম্পাদক ও প্রকাশক- সময়ের আলাপ।
সম্পাদক- সাপ্তাহিক ইউনানী কন্ঠ।
সিলেট ব্যুরো প্রধান- আজকের জনকথা।
সাবেক শিক্ষক- জামেয়া দারুল উলূম সিলেট।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন