শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও আলোচনায় উবায়দুল্লাহ ফারুক: পেতে পারেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব


​হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেটঃ

​সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বিএনপির অভাবনীয় ‘ভূমিধস’ জয়ের পর এখন সবার নজর সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার দিকে। ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জোটগত বিশাল সাফল্যের পর সিলেটবাসী এখন প্রিয় নেতাদের মন্ত্রী হিসেবে দেখার অপেক্ষায়। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে না পারলেও, অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন চলছে।

ভোটের ব্যবধান ও পরাজয়ের নেপথ্যে:

নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর কাছে মাত্র ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। স্থানীয়দের মতে, এই পরাজয়টি ছিল মূলত ভোটের সমীকরণের মারপ্যাঁচ। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ 'ফুটবল' প্রতীকে ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট পাওয়ায় জোটের ভোট ব্যাংক ভাগ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, মামুনুর রশিদ প্রার্থী না হলে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতেন। এই 'টেকনিক্যাল' পরাজয় সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা কমেনি।

কেন আলোচনায় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক?

সিলেটে গুঞ্জন রয়েছে যে, জাতীয় পর্যায়ে আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্ব এবং বিএনপির মিত্র শক্তি হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মূল্যায়ন করতে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য তার নাম এখন সিলেটে মুখে মুখে। জোটের রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা এবং তার দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মানজনক পদে দেখা যেতে পারে।

সিলেটের মানুষের প্রত্যাশা:

সিলেটের মানুষ মনে করেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতাদের ঠাঁই হবে। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের মতো একজন নিভৃতচারী ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলে তা সিলেটবাসীর জন্য এক বড় প্রাপ্তি হবে।

মন্ত্রিসভার দৌড়ে অন্যান্য যারা:

উবায়দুল্লাহ ফারুকের পাশাপাশি সিলেট থেকে আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ূন কবীর, সিলেট-১ থেকে নির্বাচিত খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়া ও জি কে গৌছও রয়েছেন আলোচনার টেবিলে।

​সিলেটের রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, নির্বাচনের ময়দানে ফলাফল যাই হোক না কেন, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের গ্রহণযোগ্যতা তাকে আগামীর সরকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

​সাহিত্য মন্ত্রণালয়: সময়ের দাবি না কি আবেগের বহিঃপ্রকাশ

হাফিজুল ইসলাম লস্কর

​একটি জাতির দর্পণ হলো তার সাহিত্য। অথচ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার করেও বাংলাদেশে সৃজনশীল মানুষদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্য কোনো স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা হিসেবে সাহিত্যের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সাহিত্যের যে বিশালতা এবং এর যে সুনির্দিষ্ট দাবি, তা কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের শাখা হিসেবে পূরণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কবি ও সাহিত্যিকদের ‘সাহিত্য মন্ত্রণালয়’ গঠনের আহ্বান কেবল একটি দাবি নয়, বরং এটি সৃজনশীল সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

​কেন প্রয়োজন আলাদা মন্ত্রণালয়?

​বর্তমানে বাংলা একাডেমি এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সাহিত্যের প্রধান অভিভাবক হিসেবে কাজ করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বাজেটের সীমাবদ্ধতায় তারা অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় কেন প্রয়োজন, তার কয়েকটি যৌক্তিক কারণ নিচে দেওয়া হলো:

  • বিশ্বদুয়ারে বাংলা সাহিত্য: বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসম্মত অনুবাদের বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু কাজ হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় পরিসরে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় অনুবাদের কোনো শক্তিশালী কাঠামো নেই। একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় থাকলে এই কার্যক্রম গতিশীল হবে।
  • তৃণমূলের মেধা অন্বেষণ: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত কবি ও সাহিত্যিকদের কোনো সঠিক তালিকা রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে নেই। স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় থাকলে এই প্রান্তিক মেধাবীদের তালিকাভুক্ত করে তাদের সৃষ্টিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সহজ হবে।
  • সৃজনশীলদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা: দেশের অগণিত কবি-সাহিত্যিক আজও অবহেলিত। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং বার্ধক্যকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ছায়া প্রয়োজন।

​স্বায়ত্তশাসন বনাম নতুন কাঠামো

​অনেকেই মনে করেন, বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন এবং বাজেট বাড়ালেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সাহিত্যের কণ্ঠস্বর জোরালো হয় না। 'সাহিত্য মন্ত্রণালয়' গঠিত হলে দেশের মননশীল সমাজ একটি সুসংগঠিত রূপ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটাবে।

​জাতির মননশীলতাকে বিকশিত করতে এবং সৃজনশীল মানুষদের যথাযথ মর্যাদা দিতে এখন সময় এসেছে 'সাহিত্য মন্ত্রণালয়' নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবার। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এই যৌক্তিক দাবিটি বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশের সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করবে।

সিলেটে বিএনপির ভূমিধস জয়: তারেক রহমানের ডাক পেলেন ৪ বিজয়ী ও ১ পরাজিত প্রার্থী


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেটঃ 

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভূমিধস বিজয় অর্জন করার পর এখন সবার নজর নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই ধানের শীষের প্রার্থীরা জয়লাভ করায় উৎসবে ভাসছে পুরো বিভাগ। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর সরকার গঠনে সিলেটের কার্ গুরুত্ব কতটুকু, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।

তারেক রহমানের জরুরি তলবঃ

​দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের বিজয়ী প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অভিনন্দন জানান। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৫ জন নেতাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় তলব করার বিষয়টি।

ঢাকায় ডাক পাওয়া নেতারা হলেন:

  • আরিফুল হক চৌধুরী (সাবেক মেয়র ও নবনির্বাচিত এমপি)
  • খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির( নবনির্বাচিত এমপি)
  • ড. রেজা কিবরিয়া( নবনির্বাচিত এমপি)
  • হুমায়ুন কবীর
  • মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী)

​জানা গেছে, নেতার জরুরি নির্দেশ পেয়ে শুক্রবার রাতেই অনেকে বিমানের ফ্লাইটে করে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

পরাজিত হয়েও আলোচনায় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক

​সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকায় এখন টক অব দ্য টাউন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও তাকে তারেক রহমানের জরুরি তলব করায় রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা যেহেতু 'বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ' এবং 'ত্যাগী' নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, তাই মাওলানা ফারুককে বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা টেকনোক্র্যাট কোটায় মূল্যায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

কেমন হবে নতুন মন্ত্রিসভা?

​বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক চমৎকার ভারসাম্য। ঢাউস বা বড় কোনো মন্ত্রিসভা না করে দক্ষ ও ছোট আকারের স্মার্ট মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এক্ষেত্রে:

  • যোগ্যতা ও ত্যাগ: অতীতে যারা দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
  • বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন: যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী, তাদের সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
  • মনোনয়ন বঞ্চিতদের সুযোগ: যারা নির্বাচনে প্রার্থী হননি বা মনোনয়ন পাননি, তাদের মধ্য থেকেও যোগ্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

​নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পরই চূড়ান্ত হবে কারা বসছেন মন্ত্রীভবনের লাল গালিচায়। তবে সিলেটের হেভিওয়েট নেতাদের এই জরুরি তলব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নতুন সরকারে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বেশ জোরালো।

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের বিশাল জয়; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধান ৯৫ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৮৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা শেষে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। অর্থাৎ, প্রায় ৯৫ হাজার ৪৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।


বিজয়ের আমেজ ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই জয় দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই অঞ্চলের উন্নয়নে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

​উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই বেসরকারি ফলাফল জানানো হয়।


​সিলেট-৬: জামায়াতের সেলিম উদ্দিনকে হারিয়ে বিজয়ী বিএনপির এমরান চৌধুরী

হাফিজুল ইসলাম লস্করঃ সিলেট-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিনকে ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এমরান আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে। ভোটের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:



নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোট গণনার শুরু থেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত এমরান আহমদ চৌধুরী ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮ ভোট।

"এই বিজয় জনগণের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন," বলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।

​উল্লেখ্য যে, বড় দুই রাজনৈতিক শক্তির এই লড়াইকে কেন্দ্র করে সিলেট-৬ আসনে নির্বাচনী আমেজ ছিল বেশ তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় বিএনপি।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের বড় জয়: ড. রেজা কিবরিয়ার চমক


নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৭৭টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

​নির্বাচনি এলাকার চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ড. রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৮৫৪ ভোট।

​ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ড. রেজা কিবরিয়া তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৫ হাজার ২১৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।

​ত্রিমুখী লড়াই ও অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান

​নির্বাচনের শুরুতে লড়াইটি ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ড. রেজা কিবরিয়ার জনপ্রিয়তার জোয়ারে অন্য প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়েন। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজিত মিয়া (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৩৮ ভোট।

​এক নজরে নির্বাচনি চিত্র

​নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের নির্বাচনি পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:



স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. রেজা কিবরিয়ার এই বিশাল জয় হবিগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তার ব্যক্তি ইমেজের কারণেই এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিলেট-৬: অর্ধেক কেন্দ্রের ফলে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই


​হাফিজুল ইসলাম লস্করঃ ​সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী লড়াই চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। মোট ১৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান কমে আসায় এক 'হাড্ডাহাড্ডি' লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

​এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ৯৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে:
​এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ): ৫৭১৩০ ভোট।
​মো. সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা): ৪৮৩২৮ ভোট।
​প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী বর্তমানে ৮,৮০২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

​বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯২টি। যেহেতু ঠিক অর্ধেক (৯৬টি) কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হয়েছে, তাই বাকি ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত বিজয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফলের মোড় যেকোনো দিকে ঘুরতে পারে।


​বর্তমানে দুই শিবিরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের নজর এখন বাকি কেন্দ্রগুলোর দিকে। বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের কেন্দ্রগুলোতে এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।