বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভোটের অপেক্ষায় সিলেট: ৬ আসনে ৩৩ প্রার্থীর লড়াই, প্রস্তুত ২৯ লাখ ভোটার


নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সিলেটঃ উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সিলেট। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ভোটের লড়াই। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ​সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনে এবার লড়াই করছেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী। ইতিমধ্যে বুধবার বিকেলের মধ্যেই ১ হাজার ১৬টি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে প্রশাসন।

​সিলেটের ৬টি আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

​সিলেট-১ (নগর-সদর): হেভিওয়েট এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ হাজার। এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫১৯ ও মহিলা ভোটার ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৩৯ জন। এ আসনে প্রার্থী ৮ জন। মূল লড়াইয়ে আছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)। এছাড়াও আছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে)।

​সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর): এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৮৭ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬১২ জন। এখানে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), মো. মুনতাছির আলী  (দেওয়াল ঘড়ি), গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য)।

​সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ): এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৮৩৪ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৩ জন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। এই আসনে লড়াই হবে বিএনপির এমএ মালিক (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিক্সা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মইনুল বাকর (কম্পিউটার) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল)।

​সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ): এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৬২ ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৯ জন। এখানে ৫ জন প্রার্থী মাঠে আছেন। বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ) ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) এ আসনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়াও জাতীয় পার্টির মো. মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা) ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল হক (ট্রাক)।

​সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৭ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৯ জন। ৪ প্রার্থীর এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তের উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ) ও জামায়াত জোটের আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি), বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন (ফুটবল)। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন (হারিকেন)।

​সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার): এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ২০৮ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ জন। এখানে ৫ প্রার্থী পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ) ও জামায়াতের সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), জাতীয় পার্টি মো. আব্দুন নূর (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান (ট্রাক)।

​নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সিলেটে নেওয়া হয়েছে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে পুলিশ ও সশস্ত্র আনসার বাহিনী। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছে র‍্যাব ও বিজিবি। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
​নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটকেন্দ্র দখল: জামায়াতের বিরুদ্ধে নজরুল ইসলাম খানের গুরুতর অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকাঃ

​নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, অর্থ বিতরণ এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সারা দেশে জামায়াতের বিরুদ্ধে অন্তত ১২৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের হাতে এসেছে।

​নজরুল ইসলাম খান বলেন, "জামায়াতের মতো একটি দল যারা নীতির কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের হতাশ করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মীরা আইনবহির্ভূত কাজে লিপ্ত হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন:

  • সৈয়দপুর বিমানবন্দর: এক জামায়াত নেতার কাছে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি এটি ব্যবসার টাকা হলেও নজরুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, "যিনি মাত্র ৩ হাজার টাকা আয়কর দেন, তিনি এত টাকার ব্যবসায়ী হন কীভাবে?"
  • শরীয়তপুর ও সূত্রাপুর: শরীয়তপুরে সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ আটক এক জামায়াত নেতাকে ২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে ভোট কেনার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে সাজা পেয়েছেন সূত্রাপুর থানার এক জামায়াত নেতা।
  • নারায়ণগঞ্জ: জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই নেতার স্ত্রী ছিলেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার।

​নির্বাচন কমিশন সচিবের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা বলেন, ইসি সচিব প্রথমে টাকা পাওয়ার ঘটনাকে 'অন্যায় নয়' বললেও পরে তা অস্বীকার করেছেন। নজরুল ইসলাম খানের মতে, ইসি সচিবের মতো পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া বা গণমাধ্যমের ওপর দায় চাপানো দুঃখজনক।

​বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির কাছে পাওয়া টাকার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ১৩০টি কেন্দ্রের এজেন্টদের খরচের জন্য ওই অর্থ ছিল, যা পরিকল্পিতভাবে বাড়িয়ে প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে টাকা বিতরণের চেষ্টার সময় সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান এনসিপি নেতাকে জনতা প্রতিহত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​সবশেষে তিনি জানান, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের দায়ে ১৩ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই পুরো পরিস্থিতিকে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।

সাংবাদিকতার আড়ালে ‘কার্ডবাজি’: নির্বাচনের আগে এক কদর্য মহড়া




জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই এ দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো একদল 'সাংবাদিক' গজিয়ে ওঠে। গলায় চকচকে আইডি কার্ড আর হাতে দামি ক্যামেরা, সবই আছে, শুধু নেই সাংবাদিকতার ন্যূনতম জ্ঞান বা নৈতিকতা। এদের মূল লক্ষ্য সংবাদ সংগ্রহ নয়; বরং কার্ডের দাপট দেখিয়ে তদবির, চাঁদাবাজি আর দফারফার মাধ্যমে পকেট গরম করা। এই তথাকথিত সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে আজ মহান এই পেশার মর্যাদা ধূলিসাৎ হতে চলেছে।

​যোগ্যতা যখন ‘আইডি কার্ডে’ সীমাবদ্ধ
​মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনকালীন অনেক সাংবাদিকের হাতে কলম-কাগজ দিয়ে দুই লাইন সংবাদ লিখতে বললে তারা রীতিমতো ‘মৃগী রোগীর’ মতো কাঁপতে শুরু করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পর্যবেক্ষক সেজে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এদের না আছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, না আছে সংবাদের ব্যাকরণ সম্পর্কে ধারণা। অথচ এদের ভিড়েই প্রকৃত সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

​সচিবালয় থেকে ভোটকেন্দ্র: সবখানেই দালালি অভিযোগ রয়েছে, শুধু নির্বাচনের মাঠ নয়, পিআইডি (PID) কার্ড ব্যবহার করে একদল ব্যক্তি সচিবালয় বা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি ও তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। জমি দালালি থেকে শুরু করে নিয়মিত মাসোহারা তোলা পর্যন্ত, সবই চলে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে।

অতীতে দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষ নিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, ‘রাতারাতি ভোটের দিন’ এখন অতীত, তবে এই অপশক্তি এখনও সক্রিয়।

​প্রশাসনের ভূমিকা ও পেশাদারিত্ব যাচাই
​নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় শুধু আইডি কার্ড যাচাই করাই এখন যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি, ভোটকেন্দ্রে সন্দেহভাজন কার্ডধারীদের পেশাগত দক্ষতা যাচাই করা হোক। তাৎক্ষণিক পরীক্ষা: সন্দেহভাজনদের প্রয়োজনে স্পটেই সংবাদ লিখতে বলা যেতে পারে। যারা অক্ষম, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা জরুরি।

​জিরো টলারেন্স: পিআইডি কার্ডের অপব্যবহার রোধে তথ্য মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। পেশাদার সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ‘আগাছা’ পরিষ্কার করা এখন সময়ের দাবি।

​সাংবাদিকতা কোনো ধান্দাবাজির পুঁজি হতে পারে না। এটি একটি দায়বদ্ধতার জায়গা। অশিক্ষিত ও নীতিহীন চক্রের কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগাছা পরিষ্কার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব। এই ‘ভুয়া’ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য এখনই না রুখলে সাংবাদিকতার মর্যাদা ও অবাধ নির্বাচনের স্বপ্ন, উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে।

হাফিজুল ইসলাম লস্কর
স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক-বিএমএসএস।
সম্পাদক ও প্রকাশক- সময়ের আলাপ।
সম্পাদক- সাপ্তাহিক ইউনানী কন্ঠ।
সিলেট ব্যুরো প্রধান- আজকের জনকথা।
সাবেক শিক্ষক- জামেয়া দারুল উলূম সিলেট।

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বই পাঠ: আত্মিক জাগরণ ও আলোকিত জীবনের মহোত্তম চাবিকাঠি



​মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো জ্ঞান, আর সেই জ্ঞানের প্রধান বাহন হলো বই। আদিম গুহাচিত্র থেকে আধুনিক ডিজিটাল লাইব্রেরি, সভ্যতার এই দীর্ঘ পথচলায় বই ছিল মানুষের বিশ্বস্ত সারথি। পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল "ইকরা" বা "পড়ো"। এই ঐশী নির্দেশনাই প্রমাণ করে যে, মানবজীবনে শ্রেষ্ঠত্বের সূচনা ঘটে বই পাঠের মধ্য দিয়ে। বই কেবল তথ্যের ভাণ্ডার নয়, এটি মানুষের মনের অন্ধকার দূর করার এক অবিনশ্বর প্রদীপ।


​বইয়ের প্রতিটি পাতা যেন একেকটি বিদ্যালয়, যা আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়। ফরাসি দার্শনিক রনে দেকার্ত বলেছিলেন, "সব ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষের সাথে কথা বলা।

ইতিহাসের বই: আমাদের অতীতের ভুল ও সাফল্য থেকে শিক্ষা দেয়।
​সাহিত্য ও কাব্য: মানুষের হৃদয়ে সহানুভূতি ও কোমলতা জাগিয়ে তোলে।
​বিজ্ঞান ও দর্শন: আমাদের চিন্তাকে করে যুক্তিবান ও শাণিত।
যে মানুষ বই পড়ে না, সে যেন এক প্রাচীরঘেরা প্রকোষ্ঠে বাস করে; যার পৃথিবীটা কেবল নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

​বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদগণ বইকে দেখেছেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।
​রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, বই মানুষের চিন্তার জগৎকে অসীম পর্যন্ত প্রসারিত করে।
​কাজী নজরুল ইসলাম বইকে দেখেছেন সুপ্ত চেতনা জাগানোর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হিসেবে।
​ফ্রান্সিস বেকন যথার্থই বলেছেন, "Reading maketh a full man" (পাঠ মানুষকে এক পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপান্তরিত করে)।

ডঃ সিউস বা Theodor Seuss Geisel বলেন, “The more that you read, the more things you will know”(কথাটির অর্থ হলো—"আপনি যত বেশি পড়বেন, তত বেশি নতুন বিষয় জানতে বা শিখতে পারবেন)।
অর্থাৎ, প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে নয়, বরং বিচিত্র বিষয়ের পাঠের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

​বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের কাছে বই অনেক সময় কেবল পরীক্ষার বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বই হওয়া উচিত পরম বন্ধু। পাঠ্যবই আমাদের পরীক্ষার জন্য তৈরি করে, আর বহির্পাঠ আমাদের জীবনের মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস করলে মনের প্রসার ঘটে, ভাষাজ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং সৃজনশীলতা বিকশিত হয়।

​একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত হলো মুক্তচিন্তা ও কুসংস্কারমুক্ত মন। বই মানুষকে সংকীর্ণতা ও অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত করে সত্য অনুসন্ধানে সাহসী করে তোলে। যে সমাজে পাঠাগার ও বইয়ের কদর বেশি, সেই সমাজে অপরাধ ও অস্থিরতা কম। বই পড়া কেবল অবসর বিনোদন নয়, এটি মননের এক নীরব বিপ্লব যা ধীরস্থিরে সমাজকে বদলে দেয়।

​বই পড়ার অভ্যাস কোনো জন্মগত বিষয় নয়, এটি পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে বড়দের ভূমিকা অনস্বীকার্য:
​শিক্ষক: শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার শিকল থেকে বের করে জ্ঞানপিপাসু করে তুলবেন।
​অভিভাবক: সন্তানের হাতে খেলনা বা স্মার্টফোনের আগে রঙিন বই তুলে দেবেন।
দৃষ্টান্ত: বড়রা যখন নিজেরা বই পড়বেন, ছোটরা স্বাভাবিকভাবেই সেই অভ্যাসে অনুপ্রাণিত হবে।

​পরিশেষে বলা যায়, বই পাঠ কেবল একটি শখ নয়, এটি আত্মার খোরাক। একটি আলোকিত জাতি এবং মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় এবং অজ্ঞতা থেকে প্রজ্ঞার পথে নিয়ে যায়। তাই আসুন, আমরা যান্ত্রিকতার ভিড়ে বইকে হারিয়ে যেতে না দিয়ে বরং বইকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলে নিজেকে এবং সমাজকে আলোকিত করি।


লেখক-
হাফিজুল ইসলাম লস্কর
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সময়ের আলাপ।
সাবেক শিক্ষকঃ -জামেয়া দারুল উলূম, রায়নগর, সিলেট।
সিলেট ব্যুরো প্রধানঃ আজকের জনকথা।

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

বৈচিত্র্যময় সিলেটের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হলেন হাফিজুল ইসলাম লস্কর


​নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেটঃ ​সিলেটের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বৈচিত্র্যময় সিলেট’-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম লস্কর। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রিকাটিতে যোগদান করেন এবং শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হয়।

​হাফিজুল ইসলাম লস্কর দীর্ঘ দিন ধরে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের সাথে জড়িত। তিনি ইতিপূর্বে দৈনিক দিনপ্রতিদিন, দৈনিক সবুজ বাংলা, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ ও বিকাল বার্তা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘জনকথা’-র সিলেট ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি সাহিত্য পত্রিকা ‘সময়ের আলাপ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

​সাংবাদিকতার পাশাপাশি হাফিজুল ইসলাম লস্কর একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রানাপিং আরাবিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে তাকমিল ফিল হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএসএস এবং ২০২৪ সালে সিলেট সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ থেকে ডিইউএমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

​নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর হাফিজুল ইসলাম লস্কর বলেন, "সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি জনগণের কাছে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব। আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব। আমার এই পেশাগত যাত্রায় সহকর্মী সাংবাদিক, প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।

​তাঁর এই নতুন নিয়োগে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শুভানুধ্যায়ীরা আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তাঁর অভিজ্ঞতা ও লেখনীর মাধ্যমে সিলেটের জনমানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে ফুটে উঠবে।

শবে বরাত: আত্মশুদ্ধি ও প্রত্যাবর্তনের মহিমান্বিত রজনী


                        بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামি ঐতিহ্যে শবে বরাত বা 'লাইলাতুল বারাআত' এক মহিমান্বিত রজনী। ফারসি শব্দ 'শব' অর্থ রাত আর 'বরাআত' অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ এটি মুক্তির রজনী। এই রাত কেবল প্রথাগত ইবাদতের সময় নয়, বরং এটি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির গভীর সংযোগ স্থাপন এবং নিজের ভেতরকার অন্ধকার দূর করে আলোর পথে ফেরার এক অনন্য সুযোগ।

​মানুষ হিসেবে আমরা ভুল ও পাপে নিমজ্জিত হই। শবে বরাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পাপের পাল্লা যত ভারীই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা কখনোই বন্ধ হয় না। এটি নিরাশার বিপরীতে আশার এক অভয়বাণী। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অগণিত মানুষকে ক্ষমা করেন। এই রাত আমাদের শেখায় যে, আন্তরিক 'তাওবা' বা অনুশোচনা করলে আল্লাহ যেকোনো গুনাহ মাফ করতে ভালোবাসেন।

​শবে বরাত কেবল সারারাত জেগে ইবাদত করার নাম নয়, বরং এটি নিজের অন্তরের ময়লা পরিষ্কার করার রাত। প্রকৃত ইবাদতের পথে প্রধান বাধা হলো মানুষের ভেতরের হিংসা, অহংকার এবং মানুষের সাথে সম্পর্কের তিক্ততা। ইসলামি বিধান মতে, যারা অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, তাদের জন্য এই রহমতের রাতেও ক্ষমা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই রাত আমাদের শেখায়, ​প্রতিশোধ নয়, বরং ক্ষমার মহানুভবতা ধারণ করা। ​অহংকার বিসর্জন দিয়ে বিনয়ী হওয়া।
​মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা মিটিয়ে নেওয়া।

শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কয়েকটি হাদীস-:""

১ম হাদীস

عن معاذِ بنِ جبلٍ ٬ عنِ النَّبيِّ صلّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ ٬ قالَ : يطَّلِعُ اللهُ إلى خَلقِه في ليلةِ النِّصفِ مِن شعبانَ فيغفِرُ لجميعِ خَلْقِه إلّا لِمُشركٍ أو مُشاحِنٍ

অর্থ : হযরত মু'আজ ইবনে জাবাল রাদি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা অর্ধ শা'বানের রাতে [শবে বরাতে] তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনযোগী হন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
সূত্র: সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস : ৫৬৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ্, হা: ১৩৯০; মুসান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ, হা: ৩০৪৭৯; ওয়াবুল ঈমান, হা: ৬২০৪

২য় হাদীস

عن عليِّ بنِ أبي طالبٍ رضي اللَّهُ عنهُ قالَ: قالَ رسولُ اللهِ صلّى اللهُ عليه وسلَّمَ إذا كانت ليلةُ النِّصفِ من شعبانَ فقوموا ليلَها، وصوموا نَهارَها، فإنَّ اللَّهَ يَنزِلُ فيها لغُروبِ الشَّمسِ إلى سماءِ الدُّنيا، فيقولُ: ألا من مُستغفِرٍ لي فأغفرَ لَه ! ألا مُسترزِقٌ فأرزقَهُ ألا مُبتلًى فأعافيَهُ ألا كذا ألا كذا حتّى يطلُعَ الفجرُ

অর্থ : হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, অর্ধ শা'বানের রাত [১৪ শা'বান দিবাগত রাত] যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোনো রিযিক প্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দিব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিবো। আছে কি এমন আছে কি এমন, এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতে থাকেন।
-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৩৮৪; শুয়াবুল ঈমান, হা: ৩৮২২; আত্তারগীব ওয়াত্ তারহীব : ২/১৩৩

৩য় হাদীস

হযরত আ'লা ইবনুল হারিস্ রহ. থেকে বর্ণিত, উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাদি. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে, আমার আশঙ্কা হলো তাঁর হয়তো ইন্তেকাল হয়ে গেছে।
আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বললেন, ওহে হুমায়রা! তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রসূল সা. তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি ইন্তেকাল করেছেন কি না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জান এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি তখন বললেন,

هذهِ ليلةُ النِّصفِ من شَعبانَ، إنَّ اللهَّ عزَّ وجلَّ يَطَّلعُ على عِبادِه في ليلَةِ النِّصفِ مِن شَعبانَ، فيغفرُ للمستَغفرينَ، ويرحمُ المستَرحمينَ، ويُؤَخِّرُ أهلَ الحِقدِ كما هُمْ

“এটা হল অর্ধ শা'বাননের রাত। (শা'বাননের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত)। আল্লাহ তা'আলা অর্ধ শা'বাননের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।” শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩

​এই রাতটি প্রতিটি মুমিনের জন্য একটি আয়নার মতো, যেখানে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। শুধু তসবিহ পাঠ বা তিলাওয়াত নয়, বরং নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করা প্রয়োজন। ​আমি কি জেনে বুঝে কারো হক নষ্ট করেছি? ​আমি কি স্রষ্টার দেওয়া জীবন বিধান অনুযায়ী চলছি?
​আমার পরিবর্তন কি কেবল এক রাতের জন্য, নাকি চিরস্থায়ী?

​শবে বরাতকে অনেকেই 'ভাগ্য রজনী' হিসেবে অভিহিত করেন। তবে এই রাতের মূল শিক্ষা হলো- ভাগ্য কেবল লিখিত কোনো পাথর নয় যা বদলানো যায় না। বরং বিনম্র প্রার্থনা বা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারেন। যখন একজন বান্দা অনুশোচনায় চোখ ভেজায় এবং আল্লাহর সামনে নিজের হৃদয় ভেঙে পেশ করে, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

​উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, শবে বরাতের মূল আহ্বান হলো-“ফিরে আসা”। অন্ধকার থেকে আলোতে, অন্যায় থেকে ন্যায়ে এবং বিচ্যুতি থেকে স্রষ্টার আনুগত্যে ফিরে আসাই এই রাতের সার্থকতা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে, ততক্ষণ প্রভুর রহমত আমাদের ঘিরে আছে। শবে বরাত আমাদের জীবনে আসুক আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং সুন্দর আগামীর অঙ্গীকার নিয়ে।



লেখকঃ- হাফিজুল ইসলাম লস্কর
সাবেক শিক্ষকঃ- জামেয়া দারুল উলূম সিলেট
স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকঃ- বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।
সাধারণ সম্পাদকঃ- বাংলাদেশ অনলাইন রিপোর্টার্স ক্লাব, সিলেট।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ- সময়ের আলাপ।

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ - সেলিনা খানম সেলু


​দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।
ফুল কান্দে, পাখি কান্দে, কান্দে সারা দুনিয়ায়,
কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​দ্বীনেরই খেদমতে গিয়ে, নামাজ, সদকা করিয়া,
দ্বীনেরই মাহফিলে চিরবিদায় নিলেন সবারে কান্দাইয়া;
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​যে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতায় শামিল ছিলেন তিনি,
সেই মাদ্রাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করিলেন উনি;
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​হলুদ খামে আসতো চিঠি দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে,
ছুটে যেতেন মাদ্রাসার ঐ কিচিরমিচির টানে;
কে জানিতো শেষ নিশ্বাস যাইবে সেখানে?
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​চার কন্যা এক ছেলে রেখে গেছেন আমানত,
আল্লাহ তাআলা তাদের যেন করেন হেফাজত।
​মিশরী মাওলানার ভাতিজা তিনি, মছদ্দর আলীর ছেলে,
খুরশীদ হাজীর নাতি তিনি দেশবাসী জানে;
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।