রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বই পাঠ: আত্মিক জাগরণ ও আলোকিত জীবনের মহোত্তম চাবিকাঠি



​মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো জ্ঞান, আর সেই জ্ঞানের প্রধান বাহন হলো বই। আদিম গুহাচিত্র থেকে আধুনিক ডিজিটাল লাইব্রেরি, সভ্যতার এই দীর্ঘ পথচলায় বই ছিল মানুষের বিশ্বস্ত সারথি। পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল "ইকরা" বা "পড়ো"। এই ঐশী নির্দেশনাই প্রমাণ করে যে, মানবজীবনে শ্রেষ্ঠত্বের সূচনা ঘটে বই পাঠের মধ্য দিয়ে। বই কেবল তথ্যের ভাণ্ডার নয়, এটি মানুষের মনের অন্ধকার দূর করার এক অবিনশ্বর প্রদীপ।


​বইয়ের প্রতিটি পাতা যেন একেকটি বিদ্যালয়, যা আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়। ফরাসি দার্শনিক রনে দেকার্ত বলেছিলেন, "সব ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষের সাথে কথা বলা।

ইতিহাসের বই: আমাদের অতীতের ভুল ও সাফল্য থেকে শিক্ষা দেয়।
​সাহিত্য ও কাব্য: মানুষের হৃদয়ে সহানুভূতি ও কোমলতা জাগিয়ে তোলে।
​বিজ্ঞান ও দর্শন: আমাদের চিন্তাকে করে যুক্তিবান ও শাণিত।
যে মানুষ বই পড়ে না, সে যেন এক প্রাচীরঘেরা প্রকোষ্ঠে বাস করে; যার পৃথিবীটা কেবল নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

​বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদগণ বইকে দেখেছেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।
​রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, বই মানুষের চিন্তার জগৎকে অসীম পর্যন্ত প্রসারিত করে।
​কাজী নজরুল ইসলাম বইকে দেখেছেন সুপ্ত চেতনা জাগানোর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হিসেবে।
​ফ্রান্সিস বেকন যথার্থই বলেছেন, "Reading maketh a full man" (পাঠ মানুষকে এক পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপান্তরিত করে)।

ডঃ সিউস বা Theodor Seuss Geisel বলেন, “The more that you read, the more things you will know”(কথাটির অর্থ হলো—"আপনি যত বেশি পড়বেন, তত বেশি নতুন বিষয় জানতে বা শিখতে পারবেন)।
অর্থাৎ, প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে নয়, বরং বিচিত্র বিষয়ের পাঠের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

​বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের কাছে বই অনেক সময় কেবল পরীক্ষার বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বই হওয়া উচিত পরম বন্ধু। পাঠ্যবই আমাদের পরীক্ষার জন্য তৈরি করে, আর বহির্পাঠ আমাদের জীবনের মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস করলে মনের প্রসার ঘটে, ভাষাজ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং সৃজনশীলতা বিকশিত হয়।

​একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত হলো মুক্তচিন্তা ও কুসংস্কারমুক্ত মন। বই মানুষকে সংকীর্ণতা ও অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত করে সত্য অনুসন্ধানে সাহসী করে তোলে। যে সমাজে পাঠাগার ও বইয়ের কদর বেশি, সেই সমাজে অপরাধ ও অস্থিরতা কম। বই পড়া কেবল অবসর বিনোদন নয়, এটি মননের এক নীরব বিপ্লব যা ধীরস্থিরে সমাজকে বদলে দেয়।

​বই পড়ার অভ্যাস কোনো জন্মগত বিষয় নয়, এটি পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে বড়দের ভূমিকা অনস্বীকার্য:
​শিক্ষক: শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার শিকল থেকে বের করে জ্ঞানপিপাসু করে তুলবেন।
​অভিভাবক: সন্তানের হাতে খেলনা বা স্মার্টফোনের আগে রঙিন বই তুলে দেবেন।
দৃষ্টান্ত: বড়রা যখন নিজেরা বই পড়বেন, ছোটরা স্বাভাবিকভাবেই সেই অভ্যাসে অনুপ্রাণিত হবে।

​পরিশেষে বলা যায়, বই পাঠ কেবল একটি শখ নয়, এটি আত্মার খোরাক। একটি আলোকিত জাতি এবং মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় এবং অজ্ঞতা থেকে প্রজ্ঞার পথে নিয়ে যায়। তাই আসুন, আমরা যান্ত্রিকতার ভিড়ে বইকে হারিয়ে যেতে না দিয়ে বরং বইকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলে নিজেকে এবং সমাজকে আলোকিত করি।


লেখক-
হাফিজুল ইসলাম লস্কর
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সময়ের আলাপ।
সাবেক শিক্ষকঃ -জামেয়া দারুল উলূম, রায়নগর, সিলেট।
সিলেট ব্যুরো প্রধানঃ আজকের জনকথা।

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

বৈচিত্র্যময় সিলেটের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হলেন হাফিজুল ইসলাম লস্কর


​নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেটঃ ​সিলেটের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বৈচিত্র্যময় সিলেট’-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম লস্কর। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রিকাটিতে যোগদান করেন এবং শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হয়।

​হাফিজুল ইসলাম লস্কর দীর্ঘ দিন ধরে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের সাথে জড়িত। তিনি ইতিপূর্বে দৈনিক দিনপ্রতিদিন, দৈনিক সবুজ বাংলা, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ ও বিকাল বার্তা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘জনকথা’-র সিলেট ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি সাহিত্য পত্রিকা ‘সময়ের আলাপ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

​সাংবাদিকতার পাশাপাশি হাফিজুল ইসলাম লস্কর একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রানাপিং আরাবিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে তাকমিল ফিল হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএসএস এবং ২০২৪ সালে সিলেট সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ থেকে ডিইউএমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

​নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর হাফিজুল ইসলাম লস্কর বলেন, "সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি জনগণের কাছে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব। আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব। আমার এই পেশাগত যাত্রায় সহকর্মী সাংবাদিক, প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।

​তাঁর এই নতুন নিয়োগে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শুভানুধ্যায়ীরা আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তাঁর অভিজ্ঞতা ও লেখনীর মাধ্যমে সিলেটের জনমানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে ফুটে উঠবে।

শবে বরাত: আত্মশুদ্ধি ও প্রত্যাবর্তনের মহিমান্বিত রজনী


                        بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামি ঐতিহ্যে শবে বরাত বা 'লাইলাতুল বারাআত' এক মহিমান্বিত রজনী। ফারসি শব্দ 'শব' অর্থ রাত আর 'বরাআত' অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ এটি মুক্তির রজনী। এই রাত কেবল প্রথাগত ইবাদতের সময় নয়, বরং এটি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির গভীর সংযোগ স্থাপন এবং নিজের ভেতরকার অন্ধকার দূর করে আলোর পথে ফেরার এক অনন্য সুযোগ।

​মানুষ হিসেবে আমরা ভুল ও পাপে নিমজ্জিত হই। শবে বরাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পাপের পাল্লা যত ভারীই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা কখনোই বন্ধ হয় না। এটি নিরাশার বিপরীতে আশার এক অভয়বাণী। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অগণিত মানুষকে ক্ষমা করেন। এই রাত আমাদের শেখায় যে, আন্তরিক 'তাওবা' বা অনুশোচনা করলে আল্লাহ যেকোনো গুনাহ মাফ করতে ভালোবাসেন।

​শবে বরাত কেবল সারারাত জেগে ইবাদত করার নাম নয়, বরং এটি নিজের অন্তরের ময়লা পরিষ্কার করার রাত। প্রকৃত ইবাদতের পথে প্রধান বাধা হলো মানুষের ভেতরের হিংসা, অহংকার এবং মানুষের সাথে সম্পর্কের তিক্ততা। ইসলামি বিধান মতে, যারা অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, তাদের জন্য এই রহমতের রাতেও ক্ষমা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই রাত আমাদের শেখায়, ​প্রতিশোধ নয়, বরং ক্ষমার মহানুভবতা ধারণ করা। ​অহংকার বিসর্জন দিয়ে বিনয়ী হওয়া।
​মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা মিটিয়ে নেওয়া।

শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কয়েকটি হাদীস-:""

১ম হাদীস

عن معاذِ بنِ جبلٍ ٬ عنِ النَّبيِّ صلّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ ٬ قالَ : يطَّلِعُ اللهُ إلى خَلقِه في ليلةِ النِّصفِ مِن شعبانَ فيغفِرُ لجميعِ خَلْقِه إلّا لِمُشركٍ أو مُشاحِنٍ

অর্থ : হযরত মু'আজ ইবনে জাবাল রাদি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা অর্ধ শা'বানের রাতে [শবে বরাতে] তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনযোগী হন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
সূত্র: সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস : ৫৬৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ্, হা: ১৩৯০; মুসান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ, হা: ৩০৪৭৯; ওয়াবুল ঈমান, হা: ৬২০৪

২য় হাদীস

عن عليِّ بنِ أبي طالبٍ رضي اللَّهُ عنهُ قالَ: قالَ رسولُ اللهِ صلّى اللهُ عليه وسلَّمَ إذا كانت ليلةُ النِّصفِ من شعبانَ فقوموا ليلَها، وصوموا نَهارَها، فإنَّ اللَّهَ يَنزِلُ فيها لغُروبِ الشَّمسِ إلى سماءِ الدُّنيا، فيقولُ: ألا من مُستغفِرٍ لي فأغفرَ لَه ! ألا مُسترزِقٌ فأرزقَهُ ألا مُبتلًى فأعافيَهُ ألا كذا ألا كذا حتّى يطلُعَ الفجرُ

অর্থ : হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, অর্ধ শা'বানের রাত [১৪ শা'বান দিবাগত রাত] যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোনো রিযিক প্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দিব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিবো। আছে কি এমন আছে কি এমন, এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতে থাকেন।
-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৩৮৪; শুয়াবুল ঈমান, হা: ৩৮২২; আত্তারগীব ওয়াত্ তারহীব : ২/১৩৩

৩য় হাদীস

হযরত আ'লা ইবনুল হারিস্ রহ. থেকে বর্ণিত, উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাদি. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে, আমার আশঙ্কা হলো তাঁর হয়তো ইন্তেকাল হয়ে গেছে।
আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বললেন, ওহে হুমায়রা! তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রসূল সা. তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি ইন্তেকাল করেছেন কি না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জান এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি তখন বললেন,

هذهِ ليلةُ النِّصفِ من شَعبانَ، إنَّ اللهَّ عزَّ وجلَّ يَطَّلعُ على عِبادِه في ليلَةِ النِّصفِ مِن شَعبانَ، فيغفرُ للمستَغفرينَ، ويرحمُ المستَرحمينَ، ويُؤَخِّرُ أهلَ الحِقدِ كما هُمْ

“এটা হল অর্ধ শা'বাননের রাত। (শা'বাননের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত)। আল্লাহ তা'আলা অর্ধ শা'বাননের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।” শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩

​এই রাতটি প্রতিটি মুমিনের জন্য একটি আয়নার মতো, যেখানে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। শুধু তসবিহ পাঠ বা তিলাওয়াত নয়, বরং নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করা প্রয়োজন। ​আমি কি জেনে বুঝে কারো হক নষ্ট করেছি? ​আমি কি স্রষ্টার দেওয়া জীবন বিধান অনুযায়ী চলছি?
​আমার পরিবর্তন কি কেবল এক রাতের জন্য, নাকি চিরস্থায়ী?

​শবে বরাতকে অনেকেই 'ভাগ্য রজনী' হিসেবে অভিহিত করেন। তবে এই রাতের মূল শিক্ষা হলো- ভাগ্য কেবল লিখিত কোনো পাথর নয় যা বদলানো যায় না। বরং বিনম্র প্রার্থনা বা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারেন। যখন একজন বান্দা অনুশোচনায় চোখ ভেজায় এবং আল্লাহর সামনে নিজের হৃদয় ভেঙে পেশ করে, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

​উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, শবে বরাতের মূল আহ্বান হলো-“ফিরে আসা”। অন্ধকার থেকে আলোতে, অন্যায় থেকে ন্যায়ে এবং বিচ্যুতি থেকে স্রষ্টার আনুগত্যে ফিরে আসাই এই রাতের সার্থকতা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে, ততক্ষণ প্রভুর রহমত আমাদের ঘিরে আছে। শবে বরাত আমাদের জীবনে আসুক আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং সুন্দর আগামীর অঙ্গীকার নিয়ে।



লেখকঃ- হাফিজুল ইসলাম লস্কর
সাবেক শিক্ষকঃ- জামেয়া দারুল উলূম সিলেট
স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকঃ- বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।
সাধারণ সম্পাদকঃ- বাংলাদেশ অনলাইন রিপোর্টার্স ক্লাব, সিলেট।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ- সময়ের আলাপ।

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ - সেলিনা খানম সেলু


​দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।
ফুল কান্দে, পাখি কান্দে, কান্দে সারা দুনিয়ায়,
কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​দ্বীনেরই খেদমতে গিয়ে, নামাজ, সদকা করিয়া,
দ্বীনেরই মাহফিলে চিরবিদায় নিলেন সবারে কান্দাইয়া;
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​যে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতায় শামিল ছিলেন তিনি,
সেই মাদ্রাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করিলেন উনি;
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​হলুদ খামে আসতো চিঠি দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে,
ছুটে যেতেন মাদ্রাসার ঐ কিচিরমিচির টানে;
কে জানিতো শেষ নিশ্বাস যাইবে সেখানে?
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

​চার কন্যা এক ছেলে রেখে গেছেন আমানত,
আল্লাহ তাআলা তাদের যেন করেন হেফাজত।
​মিশরী মাওলানার ভাতিজা তিনি, মছদ্দর আলীর ছেলে,
খুরশীদ হাজীর নাতি তিনি দেশবাসী জানে;
দুঃখ রইলো কলিজায়, কালাকোনার মাহতাব মাওলানা নাইরে দুনিয়ায়।

ভালোবাসার ফ্রেম-হাফিজুল ইসলাম লস্কর


গোলাপ জবা বকুল নয়, আঙুলে
সিরিঞ্জ বিঁধে আছে,
নীল ক্যানুলার মুখে এসে সব
ভালোবাসা থেমে গেছে।

চামড়া ছুঁয়ে ব্যথা নামে ঠিকই, কিন্তু
হৃদয়ে নামে আশ্বাস,
তুমি আছো পাশে এই তো আমার
পরম এক বিশ্বাস।

​ওটা কি শুধুই ওষুধ, নাকি
ধমনীতে মেশা টান?
শিরায় শিরায় বইছে তোমার
এক জীবনের দান।

প্রতিটি ফোঁটায় মিশে আছে
নিভৃত সেই প্রেম,
অসুস্থতায় মাঝেও গড়ে তোলা
ভালোবাসার ফ্রেম।

​স্বামী-স্ত্রীর এই পবিত্র বন্ধন
নিঝুম প্রেমে গম্ভীর,
সবচেয়ে বড় প্রেম তোমার জন্য
আমার পৃথিবী অস্থির।

.

ই কবিতাটি ২১ জানুয়ারী ২০২৬ রাতে লিখেছি।

.
​আমার প্রিয় ভাই তাহসিন আহমদ বাবর-এর প্রিয়তমা স্ত্রীর অসুস্থতা তার প্রেমাসক্ত হৃদয়কে বিচলিত করেছে। ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফুটে ওঠা সেই অব্যক্ত ভালোবাসা আর ব্যাকুলতাকে কাব্যিক রূপ দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয়তাবাদী ওলামাদল সিলেট জেলার পথচলা: আমার কিছু স্মৃতি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা





​সূচনা ও যাত্রা শুরু (২০০৬ঃ-
২০০৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল সিলেট জেলার তৎকালীন সংগ্রামী সভাপতি হাফেজ মাওলানা সোলেমান আহমদ নোমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ওলামাদল ও মাদ্রাসা ছাত্রদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করি আমরা কয়েকজন তরুণ আলেম। তিনি আমাদের আগ্রহ দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, "তোমরা এগিয়ে যাও, আমি তোমাদের পাশে আছি।"

​গোলাপগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠনঃ-
তারই দিকনির্দেশনায় আমি এবং ক্বারি মাওলানা নুরুল রহমান কদর, মাওলানা আব্দুল কাদির, মাওলানা বিলাল আহমেদ, হাফেজ মাহমুদ কলিসহ কয়েকজন তরুণ আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্র মিলে 'জাতীয়তাবাদী ওলামাদল গোলাপগঞ্জ উপজেলা' কমিটি গঠন করি। জেলা সভাপতি সোলেমান আহমদ নোমান ভাই উক্ত কমিটি অনুমোদন করেন।


​শহীদ জিয়ার আদর্শ ও এম সাইফুর রহমানের সান্নিধ্যঃ- কমিটি অনুমোদনের পর নোমান ভাই আমাদের নিয়ে তৎকালীন সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান মহোদয়ের নিকট যান। তিনি আমাদের কার্যক্রমের কথা শুনে অত্যন্ত উৎসাহ দেন এবং দেশ ও গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সময়ের স্মৃতি আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

​জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্বঃ-
​সিলেট জেলা কমিটিঃ- উপজেলা কমিটির মেয়াদ চলাকালীন আমার সাংগঠনিক তৎপরতা দেখে আমাকে সিলেট জেলা ওলামাদলের সদস্য মনোনীত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে গঠিত সিলেট জেলা কমিটিতে আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে অনিবার্য কারণে কিছুদিন পরই সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

​সিলেট মহানগর কমিটি (২০১৭): গনতান্ত্রিক রাজনীতির কঠিন সময়ে ২০১৭ সালে সিলেট মহানগর ওলামাদলের সাধারণ সম্পাদক আমার সাথে যোগাযোগ করেন। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের রক্তচক্ষু ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে দলীয় স্বার্থে আমি মহানগর কমিটিতে কাজ করতে রাজি হই। এরপর মাওলানা মঈন উদ্দিন ফয়েজকে সভাপতি, মাওলানা মাশহুদ আহমদকে সাধারণ সম্পাদক এবং আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সিলেট মহানগর ওলামাদলের কমিটি অনুমোদিত হয়।

​বর্তমান অবস্থান (২০২৪):
দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২৪ সালে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে সিলেট মহানগর ওলামাদলের নতুন 'আহ্বায়ক কমিটি' ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে আমি উক্ত আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তৃণমূল থেকে শুরু করে আজ অবধি শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে রাজপথে সক্রিয় আছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনেও ওলামাদলের পতাকাতলে থেকে দেশ ও ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখব।

রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

শাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষা: সিলেটের ৫ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

সিলেট: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে সিলেটে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আজ রবিবার বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করেন।

​আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি (মঙ্গলবার ও বুধবার) সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত ৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে এই আদেশ বলবৎ থাকবে:

  1. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
  2. আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (আম্বরখানা হাউজিং এস্টেট)
  3. সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (জিন্দাবাজার)
  4. শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা (পাঠানটুলা)
  5. শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (মীরাবাজার)

গণবিজ্ঞপ্তির প্রধান বিধিনিষেধসমূহঃ

​পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা পূর্ব থেকে শেষ হওয়ার ১ ঘণ্টা পর পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে:

  • সমাবেশ: সব ধরনের মিছিল, সভা ও সমাবেশ।
  • শব্দ দূষণ: উচ্চস্বরে চিৎকার, গান-বাজনা, ঢাক-ঢোল, মাইক্রোফোন বা লাউড-স্পিকার ব্যবহার।
  • অস্ত্র ও বিস্ফোরক: তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি বা যেকোনো ধরনের বিস্ফোরক বহন ও ব্যবহার।
  • অনুপ্রবেশ: পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত বহিরাগত ও অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ।
  • সতর্কবার্তা: গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


    ​ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।