হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেটঃ
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বিএনপির অভাবনীয় ‘ভূমিধস’ জয়ের পর এখন সবার নজর সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার দিকে। ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জোটগত বিশাল সাফল্যের পর সিলেটবাসী এখন প্রিয় নেতাদের মন্ত্রী হিসেবে দেখার অপেক্ষায়। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে না পারলেও, অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন চলছে।
ভোটের ব্যবধান ও পরাজয়ের নেপথ্যে:
নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর কাছে মাত্র ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। স্থানীয়দের মতে, এই পরাজয়টি ছিল মূলত ভোটের সমীকরণের মারপ্যাঁচ। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ 'ফুটবল' প্রতীকে ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট পাওয়ায় জোটের ভোট ব্যাংক ভাগ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, মামুনুর রশিদ প্রার্থী না হলে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতেন। এই 'টেকনিক্যাল' পরাজয় সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা কমেনি।
কেন আলোচনায় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক?
সিলেটে গুঞ্জন রয়েছে যে, জাতীয় পর্যায়ে আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্ব এবং বিএনপির মিত্র শক্তি হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মূল্যায়ন করতে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য তার নাম এখন সিলেটে মুখে মুখে। জোটের রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা এবং তার দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মানজনক পদে দেখা যেতে পারে।
সিলেটের মানুষের প্রত্যাশা:
সিলেটের মানুষ মনে করেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতাদের ঠাঁই হবে। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের মতো একজন নিভৃতচারী ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলে তা সিলেটবাসীর জন্য এক বড় প্রাপ্তি হবে।
মন্ত্রিসভার দৌড়ে অন্যান্য যারা:
উবায়দুল্লাহ ফারুকের পাশাপাশি সিলেট থেকে আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ূন কবীর, সিলেট-১ থেকে নির্বাচিত খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়া ও জি কে গৌছও রয়েছেন আলোচনার টেবিলে।
সিলেটের রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, নির্বাচনের ময়দানে ফলাফল যাই হোক না কেন, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের গ্রহণযোগ্যতা তাকে আগামীর সরকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।









