বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের বিশাল জয়; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধান ৯৫ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৮৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা শেষে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। অর্থাৎ, প্রায় ৯৫ হাজার ৪৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।


বিজয়ের আমেজ ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই জয় দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই অঞ্চলের উন্নয়নে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

​উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই বেসরকারি ফলাফল জানানো হয়।


​সিলেট-৬: জামায়াতের সেলিম উদ্দিনকে হারিয়ে বিজয়ী বিএনপির এমরান চৌধুরী

হাফিজুল ইসলাম লস্করঃ সিলেট-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিনকে ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এমরান আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে। ভোটের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:



নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোট গণনার শুরু থেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত এমরান আহমদ চৌধুরী ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮ ভোট।

"এই বিজয় জনগণের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন," বলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।

​উল্লেখ্য যে, বড় দুই রাজনৈতিক শক্তির এই লড়াইকে কেন্দ্র করে সিলেট-৬ আসনে নির্বাচনী আমেজ ছিল বেশ তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় বিএনপি।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের বড় জয়: ড. রেজা কিবরিয়ার চমক


নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৭৭টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

​নির্বাচনি এলাকার চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ড. রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৮৫৪ ভোট।

​ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ড. রেজা কিবরিয়া তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৫ হাজার ২১৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।

​ত্রিমুখী লড়াই ও অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান

​নির্বাচনের শুরুতে লড়াইটি ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ড. রেজা কিবরিয়ার জনপ্রিয়তার জোয়ারে অন্য প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়েন। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজিত মিয়া (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৩৮ ভোট।

​এক নজরে নির্বাচনি চিত্র

​নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের নির্বাচনি পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:



স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. রেজা কিবরিয়ার এই বিশাল জয় হবিগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তার ব্যক্তি ইমেজের কারণেই এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিলেট-৬: অর্ধেক কেন্দ্রের ফলে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই


​হাফিজুল ইসলাম লস্করঃ ​সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী লড়াই চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। মোট ১৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান কমে আসায় এক 'হাড্ডাহাড্ডি' লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

​এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ৯৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে:
​এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ): ৫৭১৩০ ভোট।
​মো. সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা): ৪৮৩২৮ ভোট।
​প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী বর্তমানে ৮,৮০২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

​বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯২টি। যেহেতু ঠিক অর্ধেক (৯৬টি) কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হয়েছে, তাই বাকি ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত বিজয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফলের মোড় যেকোনো দিকে ঘুরতে পারে।


​বর্তমানে দুই শিবিরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের নজর এখন বাকি কেন্দ্রগুলোর দিকে। বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের কেন্দ্রগুলোতে এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিয়ানীবাজারে ভোটের মাঠে সুনসান নীরবতা: ভোটার উপস্থিতি কম



​নিজস্ব প্রতিবেদক, বিয়ানীবাজারঃ ​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের আশানুরূপ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২৬ সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা ও নীরবতা নেমে এসেছে। অনেক কেন্দ্রে মোট ভোটের অর্ধেকও কাস্ট হয়নি বলে জানা গেছে।

​সরেজমিনে চিত্র: দুপুরের পর ভোটারশূন্য কেন্দ্র
​আজ দুপুর ১২:৩০টা থেকে বিকেল ৩:০০টা পর্যন্ত বিয়ানীবাজারের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই প্রায় ভোটারশূন্য। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম এক-দুই ঘণ্টা কিছু ভোটারের আনাগোনা থাকলেও, দুপুরের দিকে চিত্রটি বদলে যায়। অধিকাংশ কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অলস সময় পার করছেন। মাঝে মাঝে হাতেগোনা দু-একজন ভোটার এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করছেন।

​স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও সচেতন মহলের মতে, ভোটারদের এই অনাগ্রহের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:

​ভীতি ও শঙ্কা: গতকাল রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানের পরিস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
​উত্তেজনার অভাব: এবারের নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক উত্তাপ বা উৎসবমুখর পরিবেশের ঘাটতি ছিল।
​ভোটারদের অনীহা: নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

​কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, পরিবেশ এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
​তবে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় হতাশ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারায় নির্বাচনী ক্যাম্পগুলোতেও অনেকটা মলিন ভাব বিরাজ করছে।

সিলেট-৬: ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, অস্বীকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের


​নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেটঃ ​সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এড. এমরান আহমেদ চৌধুরী। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, বর্তমান ভোটের পরিস্থিতি আশানুরূপ নয়।

​বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক 'তাণ্ডব' ও 'অপ্রকাশিত কর্মকাণ্ড' চালানো হয়েছে। তাঁর মতে, রাতের আঁধারে ঘটা এসব ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছে এবং স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে।

​তবে বিএনপি প্রার্থীর এই অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি:- ​নির্বাচন ঘিরে এলাকায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে।
​বিএনপি প্রার্থীর দেওয়া অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ​ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসছেন।

​প্রশাসনের বক্তব্যঃ ​নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়:
​ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
​এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
​যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সদা প্রস্তুত এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভোটের অপেক্ষায় সিলেট: ৬ আসনে ৩৩ প্রার্থীর লড়াই, প্রস্তুত ২৯ লাখ ভোটার


নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সিলেটঃ উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সিলেট। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ভোটের লড়াই। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ​সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনে এবার লড়াই করছেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী। ইতিমধ্যে বুধবার বিকেলের মধ্যেই ১ হাজার ১৬টি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে প্রশাসন।

​সিলেটের ৬টি আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

​সিলেট-১ (নগর-সদর): হেভিওয়েট এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ হাজার। এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫১৯ ও মহিলা ভোটার ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৩৯ জন। এ আসনে প্রার্থী ৮ জন। মূল লড়াইয়ে আছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)। এছাড়াও আছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে)।

​সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর): এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৮৭ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬১২ জন। এখানে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), মো. মুনতাছির আলী  (দেওয়াল ঘড়ি), গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য)।

​সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ): এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৮৩৪ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৩ জন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। এই আসনে লড়াই হবে বিএনপির এমএ মালিক (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিক্সা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মইনুল বাকর (কম্পিউটার) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল)।

​সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ): এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৬২ ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৯ জন। এখানে ৫ জন প্রার্থী মাঠে আছেন। বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ) ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) এ আসনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়াও জাতীয় পার্টির মো. মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা) ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল হক (ট্রাক)।

​সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৭ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৯ জন। ৪ প্রার্থীর এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তের উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ) ও জামায়াত জোটের আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি), বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন (ফুটবল)। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন (হারিকেন)।

​সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার): এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ২০৮ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ জন। এখানে ৫ প্রার্থী পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ) ও জামায়াতের সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), জাতীয় পার্টি মো. আব্দুন নূর (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান (ট্রাক)।

​নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সিলেটে নেওয়া হয়েছে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে পুলিশ ও সশস্ত্র আনসার বাহিনী। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছে র‍্যাব ও বিজিবি। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
​নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।