বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮

যে পাতা খেলে ১০টি রোগের উপশম হয়!

লস্কর বার্তা :: থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম centella aciatica। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়। প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন...

১. চুল পড়ার হার কমে:
নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৩. ক্ষতের চিকিৎসা করে:
থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়:
এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৭. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

৮. কাশির প্রকোপ কমে:
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৯. জ্বরের প্রকোপ কমে:
সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়:
অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৮

সিলেট বিএনপিতে সাধারন সম্পাদক নিয়ে ধূম্রজাল অব্যাহত

হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক কে? তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, সেলিম বর্তমানে দলীয় পদে বহাল রয়েছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তার অবর্তমানে আজমল বখত সাদেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে সিলেট বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, পদ বহালের লিখিত কোন পত্র না পাওয়ায় সেলিম এখনো দলের পদ ফিরে পাননি। অন্যদিকে সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এ ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে উপলক্ষে সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারিং করেছেন বদরুজ্জামান সেলিম। অন্য দিকে আজমল বখত সাদেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ধূম্রজাল ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এ সম্পর্কে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, সেলিম এবং সাদেক দুজনেরই পদ ব্যবহারের বিষয়টি সঠিক। সেলিমই সাধারন সম্পাদক। তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তার অবর্তমানে আজমল বখত সাদেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে সিলেট বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বল্রন, পদ বহালের লিখিত কোন পত্র না পাওয়ায় সেলিম এখন আর সিলেট বিএনপির সাধারন সম্পাদক নন। তাছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে।

এ ধূম্রজাল সৃষ্টি হয় সিসিক নির্বাচনে প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে। সিসিক নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা, বাস প্রতীক নিয়ে প্রচারণা আর বিভিন্ন অলোচিত বক্তব্যের কারনে  তিনি নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ছিলেন।

তার প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল। ১০ জুলাই ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড লিপ্ত থাকার’ অভিযোগে সেলিমকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ ও বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপরও তিনি নির্বাচনে অনড় ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারনার শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরুধ ও মায়ের আদেশে দলীয় প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানান। ১৯ জুলাই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আরিফের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন সেলিম।

এ সংবাদ সম্মেলনের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান জানান, দলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বদরুজ্জামান সেলিমকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদেই থাকছেন।

মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট, ২০১৮

শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে সিলেট জেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো

হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: পবিত্র ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে সিলেট জেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো শেষ মুহুর্তে  জমে উঠেছে। সিলেটের মাছিম পুর গরুর বাজার, কদমতলি, কাজির বাজার, টিলাগড়, সুবিদ বাজার, শিবগঞ্জ বাজার, শাহপরান, হেমু, গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমী মাঠ, ঢাকাদক্ষিণ বাজার, পুরকায়স্থ বাজার, জকিগঞ্জ, কালীগঞ্জ, সোনাসার, বিয়ানীবাজার, চারখাই বাজার, কানাইঘাটের, ফেঞ্চুগঞ্জসহ বেশ জেলার কোরবানির পশুর হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে।

সরজমিন জেলার প্রধান প্রধান কয়েকটি কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কোরবানির আমেজ বিদ্যমান। ক্রেতা ও বিক্রেতারা উৎফুল্ল মেজাজে দর কষাকষির মাধ্যমে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয় করছেন।

স্থানীয় বাজার সমূহে কোরবানির পশুর মধ্যে গরুর পাশাপাশি ছাগলের হাটেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। ক্রেতারা যে যার সাধ্যমত গরু ক্রয় করতে বাজারের শুরু থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে দরাদরির করছেন। বিক্রেতারাও নিজের গৃহপালিত গবাদি পশুটিকে ক্রেতার সম্মুখে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন রকম সাজে সজ্জিত করে রেখেছেন।

তবে এবার কোরবানির পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যায়। মাছিমপুর বাজারে গরু নিয়ে আসা কামার আহমদ জানান, চাহিদা মতো দাম পাচ্ছি না। অভিযোগের সুরে বলেন মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য গৃহস্থ্যরা তাদের দেশীয় গরুর প্রাপ্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও কয়েকজন বিক্রেতার সাথে আলাপ করে জানা যায়, এবারকার কোরবানির ঈদে বড় গরুর চেয়ে মধ্যম সাইজের ৩৫,০০০ হাজার থেকে ৬০,০০০ টাকা দামের গরুর চাহিদা বেশি।

অপরদিকে গরু ক্রয় করতে আসা রেজওয়ান আহমদ জানান, গরুর যথেষ্ট দাম রয়েছে, অনেক বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন। তবে বাজারে পছন্দসই গরু যথেষ্ট পরিমাণে এসেছে।

হাট সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কাজিরবাজার কোরবানীর পশুর মাঠ পরে অন্য সবগুলো হাটে ভালো কেনাবেচা হয়েছে। শেষ দিনে তারা আরও ভালো বিক্রির আশা করছেন।

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১৮

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা

সিলেট প্রতিনিধি :: সিলেট জেলা প্রেসক্লাব নির্বাচনের মনোনয়নপত্র ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। সোমবার (৩০ এপ্রিল) ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। এদিন বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন পদে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল শুক্রবার বেলা ৩ টা থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিন কিছুটা কম থাকলেও শেষ দিন রোববার (২৯ এপ্রিল) বিকালে এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী এবং তাদের শুভানুধ্যায়ীদের পদচারণায় মূখর হয়ে ওঠে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি চলে নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থীদের অনেককেই এদিন ভোট চাইতে দেখা গেছে।

সোমবার যেসব পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে তার খসড়া হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে, প্যানেল মনোনয়নপত্র মাত্র ১টি। এছাড়া সভাপতি পদে ৩ জন, সিনিয়র সহ সভাপতি পদে ২ জন, সহ সভাপতি পদে ২ জন, ট্রেজারার পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ ৬ টি পদ ছাড়াও বাকি ৯ টির প্রতিটি পদে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনিরের দেওয়া খসড়া হিসেবে এ এসব তথ্য জানা গেছে।
রোববার তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দিনে ৫টি প্যানেলভুক্ত এবং ৩৬টি একক মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। তবে শেষ দিনের শেষ সময়ে এসে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী, সংগৃহিত মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় সোমবার (৩০ এপ্রিল) বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত ছিল। ১ মে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বাছাই এবং বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ১২ মে শনিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন চলবে ভোটগ্রহণ। এরপর ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে।

মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮

জামেয়া দারুল উলুমের ছাত্র সংবর্ধনা সম্পন্ন

লস্কর বার্তা :: আল ফাতাহ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে জামেয়া দারুল উলুম সিলেটের হিফজ সমাপনকারী ছাত্রদের সম্মানে সংবর্ধনা সভা এবং আল-ফাতাহ ছাত্র সংসদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার (১৪এপ্রিল জামেয়ার হলরুমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

জামেয়া দারুল উলুম সিলেট'র প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী’র সভাপতিত্বে এবং আল ফাতাহ ছাত্র সংসদ'র সভাপতি হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই'র সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপ'র মহা-সচিব মাওলানা সৈয়দ মোশাররফ আলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদীস মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী, সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ। উক্ত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও বিদায়ী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামেয়া’র নায়েবে মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ শোয়াইব আহমদ।

বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও বিদায়ী সভায় উপস্থিত থেকে গুরুত্বপুর্ন বক্তব্য রাখেন জামেয়া আমিনিয়া মংলিপাড়'র প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল মতিন নবীগঞ্জী, মাওলানা ফজল আহমদ, মাওলানা আখতারুজ্জামান, হযরত খালেদ বিন অলিদ (রাঃ)এর মুহতামিম মাওলানা আবুবকর সরকার, যুবনেতা মাওলানা রফিক আহমদ মহল্লী, মুফতি জাকারিয়া মাহমুদ, মাওলানা এম বেলাল আহমদ চৌধুরী,

বাংলাদেশ রিপোটার্স ক্লাব'র স্থায়ী সদস্য, বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম, সিলেট জেলার শিক্ষা ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা হাফিজুল ইসলাম লস্কর,
মাওলানা হেলাল আহমদ ,মুফতি জুনাঈদ আল হায়দার, হাফিজ শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আলবাব চৌধুরী, মাওলানা বজলুর রহমান সোহান, মাওলানা সদরুল আমিন চৌধুরী, হাফিজ মাওলানা খলিল্লাহ প্রমুখ।

জামেয়ার ছাত্রদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, হাফিজ ইবরাহীম খলিল, হাফিজ মুহাফিজুল ইসলাম সাকিব, হাফিজ আব্দুল্লাহ মাহফুজ, হাফিজ বুরহান উদ্দীন, হাফিজ মাহদী হাসান, হাফিজ তাজুল ইসলাম ফাহীম, ইউসুফ আল-আযাদ, জয়নুদ্দীন, ফয়সল মাহমুদ, আমিনুল ইসলাম, রিয়াদ আহমদ চৌধুরী, ফুয়াদ আহমদ প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা সৈয়দ মুশাররফ আলী বলেন, কওমী মাদরাসা হলো প্রকৃত দ্বীন শিক্ষার কেন্দ্র। যুগের সকল চ্যালেঞ্জ মুকাবেলায় ছাত্রদের যোগ্যতা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলতে হবে।

তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাতিলের মোকাবেলার জন্য লিখনির ও বক্তৃতার ময়দানে যোগ্যতার পাশাপাশি আমলী জীবন তৈরী করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে সৈয়দ শোয়াইব আহমদ বলেন, কওমী মাদ্রাসা সত্যিকারের সুনাগরিক গড়ার একমাত্র প্রতিষ্টান, তাই সুনাগরিক গড়ার কারখানা কওমী শিক্ষা প্রতিষ্টানকে আরো বেগবান করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

হাফিজুল ইসলাম লস্কর বলেন, সময় এখন কঠিনতার মাধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে, ভিনদেশী সাংস্কৃতি, অনুকরন প্রিয়তা ও কুসংস্কারে সয়লাব আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ, জাতী আজ দিশাহারা পথভ্রান্ত, বিজাতীয় অপসংস্কৃতির গড্ডালিকায় গা-ভাসিয়ে দিয়েছে যুবসমাজ, তাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে পারে একমাত্র কওমী শিক্ষা প্রতিষ্টান এবং কওমী ছাত্ররা। জাতির দুর্দিনে কওমি ছাত্ররাই পারে সুস্থ্য সুন্দর সমাজ বিনির্মান করতে।

কওমীর ছাত্ররা জাগরেই জাগবে বাংলাদেশ, তাই আপনাদের জাগতে হবে এবং সমাজকে জাগাতে হবে, সুস্থ্য ও সুন্দর সমাজ বিনির্মানে আপনাদের অনেক দায়িত্ব্য ও কর্তব্য রয়েছে, আপনারা সমাজের সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ুন এবং আদর্শ সমাজ বিনির্মানের শপথ নিন, কওমীর ছাত্ররাই পারে সভ্য সমাজ বিনির্মান করতে।

রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১৮

ভয়ঙ্কর নদীতে ডুব দিলে আপনি নয় ভেসে উঠবে আপনার কঙ্কাল!

হলিবিডি ডেস্ক :: বহমান নদী মানেই ঝাঁপিয়ে পড়া, সাঁতার কাটা। শৈশবের এমন মজার স্মৃতি আছে অনেকরই। কিন্তু যদি এমন হয় যে, আপনি নদীতে ডুব দিলেন আর ভেসে উঠার পর আপনার গায়ে শুধু হাড়গুলো ছাড়া কিছুই নেই! তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে?

স্পেনে এমনই একটি ভয়ঙ্কর নদী আছে, যেখানে ডুব দিলে কঙ্কাল হয়ে উঠতে হবে। রিও টিনটো নামের এ নদীর পানি অত্যন্ত আম্লিক (এসিডিক) (pH-1.7-2.5) এবং ভারী ধাতু সমৃদ্ধ। নদীর পানিতে রয়েছে প্রচুর ফেরিক আয়রন।

স্পেনের দক্ষিণ পশ্চিম দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদীটির উৎস আন্দালুসিয়া পর্বতে। এ নদীটি মাইন খননের সময় উৎপন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এখান থেকে কপার তোলা হয়েছে। এই মাইনটির ব্যাপ্তি এতোটাই ব্যাপক যে এর আশেপাশের গ্রামগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। এমনকি নদীটি বেশ কয়েকটি আস্ত পাহাড়কেও গ্রাস করেছে।

এই খননের প্যাটার্ন অর্থাৎ নদীটি এতোটাই দৃষ্টি নন্দিত যে দেখলে মনে হবে আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় আছেন। তবে যতই সুন্দর হোক, এটাকে স্পর্শ করা যায় না।

লস্কর বার্তা/লস্কর/০১.০৪.১৮

শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১৮

সিলেটে চৈত্র'র ভীতি জাগানিয়া আগমন বার্তা, আহত ৭

হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: বৃহস্পতিবার (২৯মার্চ) রাত ৮-২০মিনিটে হঠাৎ করেই শুরু হয় চৈত্রের বৈশাখী তান্ডব, মুষড়ধারে বৃষ্টি এবং সেই সাথে তীব্র বাতাসের শন শন শব্দে ভীতিকর পরিবেশের অবতারনা হয় সিলেটের প্রান কেন্দ্র নামে খ্যাত কোর্ট পয়েন্ট তার আশেপাশের এলাকাসহ সমস্ত সিলেটের সাধারন মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

চৈত্র'র আগমনের ভয়ঙ্কর তান্ডবে উড়ে গেছে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম জামে মসজিদের টিনের চাল। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫ মুসল্লী। সিলেটের কেন্দ্রীয় পোষ্ট অফিসের সামনের গাছ ভেঙ্গে পড়ে। সেই সাথে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্টানের সাইনবোর্ড, দুইটি সিএজি এবং কয়েকটি মুদি দোখানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

চৈত্র'র প্রথম তান্ডবে বন্দরের সুরমা মার্কেট, মধুবন মার্কেট এবং কুদরত উল্লাহ মার্কেটের সামনে সাধারন পথচারী আশ্রয় গ্রহন করে। সেই সময় ঝড়ের তীব্রতায় সেসব জায়গার আশ্রয় নেয়া লোকজনের মনে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

তখন আতঙ্কিত মানুষ ভয়ে আল্লাহু আকবার তাকবীর ধবনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলে এবং সমন্নিত কন্ঠে ঝড় নামক মহা বিপদ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করে।

এদিকে ঝড়ে উড়ে যাওয়া সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম মসজিদ ও আহতদের দেখতে ছুটে যান
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রচন্ড ঝড়ের সময় বিভাগীয় স্টেডিয়াম জামে মসজিদের টিনের পুরো চাল উড়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী আবদুল মতিনের বাড়িতে পড়ে।

এসময় মসজিদের ভেতর মুসল্লীরা এশার নামাজ আদায় করছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫ মুসল্লী আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।