মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

সিলেটে ভিলেজ ডাক্তার কমিউনিটি (ভিডিসি)'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: সারাদেশের গ্রাম ডাক্তারদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের দাবী আদায়ের লক্ষে সিলেট বিভাগের সকল পল্লী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রাথমিক চিকিৎসক নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিলেজ ডাক্তার কমিউনিটি (ভিডিসি) সিলেট বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় নুরজাহান হাসপাতাল দরগাগেইট, সিলেট এর হলরুমে অনুষ্টিত হয়।

সিলেট সরকারী ইউনানী-আয়ূর্বেদিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডাঃ আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও ডাঃ বেলাল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রান ডেভোলাপমেন্ট সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারী ডাঃ গাউসুল আজম, সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ নাসিম আহমেদ, প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ডাঃ আনম রুস্তম আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রান ডেভোলাপম্যান্ট সোসাইটির পরিচালক ডাঃ মোঃ সাফিনুর রহমান, কোষাধক্ষ্য রেজাউল করীম রেজা, ডাঃ আলী আহমদ, ডাঃ আব্দুল জব্বার রাজু, ডাঃ হযরত আলী, ডাঃ মুজাহিদ মিয়া, ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান, ডাঃ মোস্তফা আহমদ আজাদ, ডাঃ মোঃ জালাল উদ্দিন, ডাঃসুরঞ্জিত দাশ, ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনুষ্টানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা শহীদুল আলম, গীতা পাঠ করেন দিপন বিশ্বাস। উক্ত মতবিনিময় সভায় পল্লী চিকিৎসক অধিকার আদায়ে ১৩টি প্রস্তাবনা পেশ করেন মুহা. হযরত আলী।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে "বিওআরসি" সিলেট জেলার শোক

হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অনলাইন রিপোর্টার্স ক্লাব সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ।

এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আজিজ আহমদ সেলিম ‘সিলেটের সাংবাদিক অঙ্গনের অভিভাবক ছিলেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে তিনি আমাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন, আমাদের কর্মে প্রেরণা যোগাবেন। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটে সাংবাদিকতার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

আজিজ আহমদ সেলিমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অনলাইন রিপোটার্স ক্লাব জেলার নেতৃবৃন্দ।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে সিলেটের গনমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজিজ আহমদ সেলিম রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত পৌনে নয়টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

তিনি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে সিলেট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সিলেট নগরীর মজুমদারী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

জামেয়া মাদানিয়া যে সব সূর্য সন্তাদের নিয়ে গর্ব করে সিরাজী (রহঃ) তাদের মাধ্যে অন্যতম


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: আল্লাহর জমিনে আল্লাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠার সাধনা ছিল যার আজীবন, দ্বীনি আন্দোলনের এক সিপাহসালার মাও. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী ছিলেন, একজন আদর্শবান, সৎ, আমানতদার ও পরোপকারী আলেমে দ্বীন। হযরতের ইন্তেকালে আমরা জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসার পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক ও ছাত্র সকলেই গভীরভাবে শোকাহত।

জামেয়া মাদানিয়া যে সব সূর্য সন্তাদের নিয়ে গর্ব করে, মরহুম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (রহঃ) তাদের মাধ্যে অন্যতম। তিনি আজন্ম প্রিন্সিপাল (রহঃ) এর নেতৃত্বে খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। হাস্যউজ্জল মায়াবী চেহারার কর্মী বান্ধাব নেতা মাও. সিরাজীর অভাব রয়ে যাবে যুগ যুগান্তর, জামেয়া মাদানিয়া আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার সিলেটের প্রাক্তন ছাত্র ও জামেয়া মাদানিয়ার মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগরের সাবেক সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (রহঃ) কে।

আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাদ জোহর জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা মসজিদে মাও. সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইসালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে। ইসালে সাওয়াব অনুষ্টানে মাও. সিরাজী (রহঃ) জীবন ও কর্ম বিভিন্ন দিক আলোচনাকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন, জামেয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা সামীউর রাহমান মুসা ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।

মাও. সিরাজী (রহঃ) জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা এবং ইসালে সাওয়াব মাহফিল অংশগ্রহন করেন, জামেয়া মাদানিয়ার সদরুল মুদারিরিসিন মাওলানা আব্দুস সোবহান (দা.বা.), জামেয়া মাদানিয়ার শিক্ষা সচিব মাওলানা মুফতি শফিকুর রহমান, সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আশিকুল ইসলাম, জামেয়া মাদানিয়া সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা কারী মোশতাক আহমদ, মাওলানা আব্দুস সালাম, সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন, মাওলানা জামিল আহমদ, মাওলানা আব্দুল খালিক, মাওলানা আব্দুর রহমান ইউসুফ, জামেয়ার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, প্রাক্তন ছাত্র মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, মাওলানা বদরুল আলাম, মাওলানা আমিন আহমেদ রাজু প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. রুহুল আবিদ নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত


লস্কর বার্তা : নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিনি অধ্যাপক ড. রুহুল আবিদ এবং তার অলাভজনক সংস্থা হেলথ অ্যাণ্ড এডুকেশন ফর অল (হায়েফা)। ২০২০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ২১১ ব্যক্তির মধ্যে তিনি একজন।

ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিন-ফিলিপ বেলিউ এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে স্নাতক এবং জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোলিকুলার বায়োলজি ও জৈব রসায়নে পিএইচডি অর্জন করেছেন ড. রুহুল আবিদ। এর পর ২০০১ সালে তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন।

ব্রাউন গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভের একজন নির্বাহী সদস্য ড. রুহুল আবিদ। বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে তার স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল (হায়েফা)। বর্তমানে সংস্থাটি দুটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে করোনা সংক্রমণরোধে দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংস্থাটি।

নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০২০ সালের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্য থেকে আগামী অক্টোবরে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মসজিদ পরিচিতি: নয়াবাদের ঐতিহাসিক মসজিদ


লস্কর জার্নাল : দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন। দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত। জেলা সদর থেকে ২০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে এর অবস্থান। ১.১৫ বিঘা জমির উপর মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদের সামনে একটি মাদ্রাসা স্থাপিত হয়েছে।

মসজিদের প্রবেশদ্বারের ওপর ফারসি ভাষায় রচিত লিপি থেকে জানা যায়, সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সময় ২ জ্যৈষ্ঠ, ১২০০ বাংলা সনে (১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের নির্মাণ সম্বন্ধে জনশ্রুতি অনুযায়ী আঠারো শতকের মধ্যভাগে যখন বিখ্যাত কান্তজী মন্দির নির্মিত হয়, তখন পশ্চিমা দেশ থেকে আগত মুসলিম স্থাপত্যকর্মীরা পার্শ্ববর্তী নয়াবাদ গ্রামে মোকাম তৈরী করেন এবং সেখানে এ মসজিদ নির্মাণ করেন।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি আয়তাকার। এর চারকোণায় রয়েছে চারটি অষ্টভুজাকৃতির টাওয়ার। বাইরের দিক থেকে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১২.৪৫ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৫ মিটার। দেয়ালের প্রশস্ততা ১.১০ মিটার। মসজিদে প্রবেশের জন্য পৃর্বদিকে রয়েছে তিনটি খিলান। মাঝের খিলানের উচ্চতা ১.৯৫ মিটার, প্রস্থ ১.১৫ মিটার। পাশের খিলানদ্বয় সমমাপের এবং অপেক্ষাকৃত ছোট।

উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দুটি জানালা রয়েছে। প্রবেশদ্বার ও জানালার খিলান বহু খাঁজযুক্ত (multi-cusped)। মসজিদের ভিতরে পশ্চিম দিকে রয়েছে তিনটি মিহরাব। মাঝের মিহরাবের উচ্চতা ২.৩০ মিটার এবং প্রস্থ ১.০৮ মিটার। দুই পাশের মিহরাব দুটি অপেক্ষাকৃত ছোট। মসজিদের তিনটি অর্ধগোলাকৃতির গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি অন্য দুটির তুলনায় কিছুটা বড়। গম্বুজের অবস্থান্তর পর্যায়ে পেন্ডেন্টিভ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের কার্নিশ এবং প্যারাপেট সমান্তরাল। মসজিদের চার কোণের কর্নার টাওয়ারের মধ্যে ২টির উপর (উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম কোণের) কুপলা রয়েছে।

বাকি দুটির উপরে ছোট গম্বুজ। গম্বুজদ্বয় বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। কর্নার টাওয়ারগুলি সাদামাটা ইট ও পলেস্তারা দিয়ে তৈরি। কর্নার টাওয়ারের গায়ে চারটি ব্যান্ড আছে। টাওয়ারগুলি ক্রমশ সরু, উপরে ছোট গম্বুজ।

সমস্ত দেয়াল জুড়ে আয়তাকার বহু পোড়ামাটির ফলক রয়েছে। পোড়ামাটির নকশাগুলি বহু জায়গায় খুলে পড়েছে। ফলকগুলির আয়তন ০.৪০ মি×০.৩০ মি । ফলকগুলির মধ্যে লতাপাতা ও ফুলের নকশা রয়েছে। একটিতে জোড়া ময়ুরের প্রতিকৃতিও রয়েছে। এরূপ মোট ১০৪টি আয়তাকার ফলক রয়েছে, তবে ফলকের মধ্যে অলংকরণের অনেকটাই প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত।

যেভাবে যাওয়া যায়: নয়াবাদ মসজিদ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত। জেলা সদর থেকে ২০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে এর অবস্থান।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মসজিদ পরিচিতি : বাংলাদেশের ঐতিহ্য 'গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ'


লস্কর জার্নাল :: দেবীদ্বার তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্য 'গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ' এটি নির্মাণশৈলির দিক থেকে দেশের বিখ্যাত মসজিদগুলোর অন্যতম মসজিদ। 'গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ'টি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে উত্তর-পশ্চিম কোণে দেবীদ্বার পৌর এলাকায় এবং দেবীদ্বার সদর থেকে দু'কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে গুনাইঘর গ্রামে অবস্থিত।

নতুন এবং পুরাতন নির্মাণ পদ্ধতির সংমিশ্রণে অসংখ্য ক্যালিওগ্রাফিতে আঁকা ব্যাতিক্রমধর্মী নির্মাণ শৈলির সাত গম্বুজ মসজিদটি দেশ-বিদেশের সৌন্দর্য পিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ক্যালিওগ্রাফি ও নির্মাণ কৌশল। মসজিদের চার কোনায় চারটি মিনার রয়েছে। চার মিনারের বাংলাদেশে এটাই প্রথম মসজিদ বলে জনশ্রুতি রয়েছে। মিনারগুলোর উচ্চতা ৮০ফুট। এতে গম্বুজ রয়েছে ৭টি। মসজিদটি ৪৮ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট। এ মসজিদের মূল অংশে শতাধিক মুসুল্লি নামাজ পড়তে পারেন। এ ছাড়া মসজিদটির বারান্দায় অর্থাৎ সামনের টাইলস করা খালী জায়গায় মূল অংশের দ্বিগুণ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের উপরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে বিভিন্ন রং'র বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদে লিখা 'আল্লাহু' শব্দটি রাতের অন্ধকারে তারকার মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলতে থাকে। অনেক দূর থেকে এ আলো দেখা যায়। মসজিদটি'র পশ্চিম পার্শ্বে দৃষ্টি নন্দিত একটি ফল ও ফুলের বাগান আছে। এছাড়াও রয়েছে বিশাল আকৃতির জলধার। এর পাড়সহ চার দিক শ্বেত পাথরে মোড়ানো।

ক্যালিওগ্রাফির দিকে নজর দিলে অবাক হতে হয়। এখানে বাংলা ও আরবিতে ক্যালিওগ্রাফি করা হয়েছে। কারুকাজ ও নকসা শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন শিল্পী আরিফুর রহমান। মসজিদটির স্থপতি ছিলেন শাহিন মালিক। আরবি অক্ষরে সুন্দর করে লিখা হয়েছে 'সুরা আর রহমান', 'আয়তুল কুরছি' ও 'চার কূল'। মসজিদের ভেতরের মূল অংশে ৫টি গম্বুজ আছে। একটিতে লিখা আয়তুল কুরসী। অন্য চারটি গম্বুজের ভেতরে লিখা ৪টি কূল। মসজিদটির বাহিরের আবরনে বহু চাঁদ তারা আঁকা রয়েছে। মসজিদটিতে ইট, সিমেন্ট, বালির পাশাপাশি চিনামাটি ও টাইলস ব্যবহৃত হয়েছে। কারুকার্য করা হয়েছে মোঘল তুর্কী ও পারস্যের সংমিশ্রণে। এখানে ৩ শত ৫০ মন চিনামাটির টুকরো ও দু'শতাধিক গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে ৬টি এসি ও একটি ঝারবাতি আছে। একটি আধুনিক মসজিদে যা কিছু থাকার কথা সবই গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদে বিদ্যমান রয়েছে।