বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

মুমিনুল হকের ব্যাটের প্রতিটি ছোঁয়ায় ফুটে উঠে বিশুদ্ধ টেস্ট ব্যাটিং


নিজস্ব প্রতিনিধি :: কালো মেঘে ছেয়ে আছে ক্যান্ডির আকাশ। আলোর বড্ড অভাব। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আলো মাপার যন্ত্র দিয়ে দেখলেন অবস্থা। তার আগেই অবশ্য মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য হাঁটা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা। আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হলেও দিন শেষের ঘোষণা আসেনি। কারণ এখনও প্রায় ঘণ্টাখানেকের মতো বাকি আছে দ্বিতীয় দিনের খেলা।

মাঝে একবার বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ করে খেলোয়াড়রা ড্রেসিং রুমে ফিরে গিয়েছিলেন। যদিও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার শুরু হয় খেলা। আর এবার আলোর স্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেছে ম্যাচ। সে পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৪৭৪। মুশফিকুর রহিম ৪৩ রানে ও লিটন দাস ২৫ রানে অপরাজিত।

টি-টোয়েন্টির যুগে ক্রিকেটে ধাঁচই পাল্টে গেছে। টেস্ট ক্রিকেটেও চলে পালা করে দ্রুত রান তোলার প্র্রতিযোগিতা। সত্যিকারের টেস্ট ব্যাটসম্যানরা যেন হারিয়েই যেতে বসেছেন। কিন্তু ক্যান্ডিতে ৫ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এক ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দেখলে টেস্ট-প্রাণ খুঁজে পাওয়া যায়। বিশুদ্ধ টেস্ট ব্যাটিং বলতে যা বোঝায়, সেটিই ফুটে উঠেছে মুমিনুল হকের ব্যাটের প্রতিটি ছোঁয়ায়।

একটু একটু করে যা দিয়ে গড়ে তুলেছেন সেঞ্চুরির প্রাসাদ। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার মাটিতে যে শতকটি আজীবন স্মৃতির মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখবেন মুমিনুল। বিদেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি বলে কথা! ‍বিশুদ্ধ টেস্ট ব্যাটিংয়ের মায়া মিশিয়ে ১২৭ রানের স্মরণীয় এক ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে লাহিরু থিরিমানের হাতে ধরা পড়ার আগে মোকাবিলা করেছেন ৩০৪ বল। ১১ চারে সাজানো ইনিংসের বল সংখ্যাই বলে দিয়েছে কতটা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন মুমিনুল। ভালো বল যেমন ইস্পাতদৃঢ় প্রতিজ্ঞায় প্রতিহত করেছেন, তেমনি বাজে বলের পুরো ফায়দা তুলে নিজের সঙ্গে দলীয় স্কোর করেছেন সমৃদ্ধ।

মুমিনুলের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। চা বিরতির আগে তাকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৪৪০ রান।

প্রথম দিনের দ্বিতীয় ওভারে সাইফ হাসানের বিদায়ের পর মাঠে নেমেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই হিসাবে বলা যায়, ক্যান্ডি টেস্টের শুরু থেকে ব্যাট করেছেন তিনি। গোটা দিন উইকেট অক্ষত রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও সমানতালে লড়ে যাচ্ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। প্রায় দেড় দিন ব্যাট করে অবশেষে থামলেন শান্ত। ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগালেও বিদায় নিয়েছেন ১৬৩ রানে।

এরই সঙ্গে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার উইকেট না পাওয়ার অপেক্ষা। ৮৬ ওভার পর স্বাগিতকরা পায় প্রথম উইকেট। বুধবার তামিম ইকবাল ৩৯তম ওভারে আউট হওয়ার পর আজ (বৃহস্পতিবার) শান্ত ফেরেন ১২৫তম ওভারে। লঙ্কানদের ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন লাহিরু কুমারা। অনেক চেষ্টার পর নিজের বলে নিজেই ক্যাচ তালুবন্দি করে শান্তকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছেন এই পেসার।

যাওয়ার আগে শান্ত খেলে গেছেন ১৬৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। ক্যারিয়ারসেরা ৩৭৮ বলের লম্বা ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৭ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়। একই সঙ্গে মুমিনুলকে নিয়ে গড়ে গেছেন তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি। বাংলাদেশ অধিনায়কের সঙ্গে তিনি গড়েছেন ২৪২ রানের ‍জুটি। ভেঙেছেন এই মুমিনুল ও মুশফিকুর রহিমের আগের ২৩৬ রানের জুটি।

এই বাংলাদেশেকে দেশের মাটিতেও পাওয়া যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতায় যে ক্ষত লেগেছিল, সেই ঘা শুকিয়ে অপ্রতিরোধ্য এক বাংলাদেশের ছবি দেখা যাচ্ছে ক্যান্ডিতে। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে প্রথম দিন শাসনের পর দ্বিতীয় দিনেও একই ঢংয়ে সফরকারীরা। প্রথম সেশনে তো উইকেটই হারায়নি। বরং দেশের বাইরে মুমিনুল হক প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর শান্তর দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায় বাংলাদেশকে।

ক্যান্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১১৮ ওভারে ২ উইকেটে ৩৭৮ রান। প্রথম দিন শেষে স্কোর ছিল একই উইকেটে ৩০২। অর্থাৎ, দ্বিতীয় দিনে কোনও উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ স্কোরে জমা করেছে ৭৬ রান। আর এই রান তোলার পথে বিদেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুমিনুল।

টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। হাফসেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে তার চেয়ে ভালো কে জানেন! তারপরও সমালোচনার একটা তীরে মুমিনুল হক বিদ্ধ হতেন নিয়মিত। দেশের মাটিতে সেঞ্চুরি ‘ডালভাত’ বানিয়ে ফেললেও বিদেশের মাটিতে গিয়ে একেবারেই পাওয়া যায় না সেই মুমিনুলকে। অবশেষে দেশের বাইরে এলো তার প্রথম সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টে আক্ষেপ ঘোচালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

টেস্ট ক্যারিয়ারে নামের পাশে ১০ সেঞ্চুরি। যার একটিও নয় বিদেশের মাটিতে। দেশের মাটিতে প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘোরালেও বাইরে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলতেন মুমিনুল। দেশের মাটিতে সেঞ্চুরি আছে, কিন্তু বিদেশের মাটিতে নেই, এমন ব্যাটসম্যানদের তালিকায় সেঞ্চুরি সংখ্যায় এতদিন সবার ওপরে ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তবে আজ থেকে ওই তালিকা থেকে কাটা গেলো মুমিনুলের নাম।

টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি এটি। এর আগেও দশবার উদযাপন করেছেন, তবে এবারের উপলক্ষটা নিঃসন্দেহে আলাদা মুমিনুলের জন্য। বিদেশের মাটিতে তো কখনও এভাবে ব্যাট উঁচিয়ে ধরা হয়নি তার। আগের দিনের ৬৪ রান নিয়ে দিন শুরু করে লাঞ্চের আগেই শতক তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

মুমিনুলের সেঞ্চুরির পরপরই দেড়শ পূরণ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের দিনই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে আরেকটি মাইলফলকে নিয়ে গেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে জুটির ডাবল সেঞ্চুরিও হয়ে যায় তাদের।

বাবার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে ছেলে হাফিজুল ইসলাম লস্করের স্মৃতি চারণ


নিজস্ব প্রতিনিধি : বিএমএসএস এর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও সাপ্তাহিক ইউনানী কন্ঠের সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম লস্করের পিতা আলহাজ্জ মছব্বীর আলী লস্কর (মরহুম) এর  ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। (৮রামাদ্বান হিসেবে ১বছর পুর্ণ হলেও ইংরেজী সাল হিসেবে প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী হবে ২মে। কেননা তিনি গত বছরের ২মে ২০২০ মোতাবেক ১৪৪১ হিজরীর ৮রামাদ্বান ইন্তেকাল করেন)। তিনি গত ২০২০ সাল মোতাবেক ১৪৪১ হিজরীর ৮ই রামাদ্বান বিকেল ৩-১০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

বাবার স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে হাফিজুল ইসলাম লস্কর জানান, আমার বাবা আমাদের সামনেই চেয়ারে বসা ছিলেন। আর আমরা কথা বলতে ছিলাম, হঠাৎ বাবার হাত পা কাপতে লাগলো আর বাবা তখন মুখ দিয়ে কি যেন পড়তে ছিলেন, মা তখন বাবার মুখে পানি তুলে দিলে বাবা সেই পানি পান করেন, তারপর আমি পানি দিলাম বাবা সেই পানি পান করলেন। এরপর আমরা বাবাকে বিছানায় শুয়ালাম। এর কিছু সময় পরই বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন শান্তির ঘুমে। দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে।

আমার বাবা বেশ কয়েকদিন থেকেই অসুস্থ ছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও ঘুম বেড়ে গিয়েছিল মারাত্মকভাবে। তাছাড়া খাবার খেতে চাইতেন না মোটেও। খাবার খাওয়ানোর জন্য বারবার চেষ্টা করতাম আমরা সবাই। তিনি শুধু বলতেন খাবার জানে চায়'না রে বাবা।

বাবার কথা মনে পড়লে মনে খুবই কষ্ট পাই। এই কষ্ট নিয়ে এখন দিন কাটাচ্ছি। বাবাকে হারানোর আজ এক বছর পূর্ণ হয়েছে।

বাবাহীন একজন ছেলের জীবন যে কতটা বিয়োগান্ত হয়, তা হয়তো যাদের বাবা বেঁচে আছেন তারা কখনোই বুঝতে পারবে না। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয় সত্যি আমি বড়ই একা। একটু ভালোবাসা দেওয়ার, সান্ত্বনা দিয়ে সামনে চলার প্রেরণা জোগানোর মানুষটি আজ বেঁচে নেই। বাবাকে ছাড়া বাঁচতে পারব এ কল্পনা কখনো করিনি। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। কেটে যাচ্ছে একেকটি দিন, একেকটি মাস।

বাবার অনেক স্মৃতি, অনেক কথা, যা আজও ভুলতে পারিনি, ভুলা যায় না। বাবাহীন প্রত্যেক দিন একেকটি ঝামেলা, একেকটি একাকিত্ব। ছায়াহীন পথ, আর লক্ষ্যহীন সকল যুক্তি। বাবাকে খুব মনে করছি। বাবার জন্য অনেক কষ্ট হয়। বাবা না থাকাটা যতটুকু কষ্টের, তার চেয়েও বেশি ঝামেলার।

বাবা, তুমি আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছ না ফেরার দেশে। তুমি বেঁচে থাকতে তোমার গুরুত্ব আমরা কখনো বুঝিনি। আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি তোমার অনুপস্থিতি। তোমার চলে যাওয়া আমাদের জীবনে বিশেষ করে আমার জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি।

আমার আর এই যান্ত্রিক জীবন ভালো লাগে না বাবা। তোমার ছায়ায় যতটা দিন ছিলাম ভালোই তো ছিলাম। ছোট্ট পুঁচকে একটা ছেলের মতো জীবনটা এগোচ্ছিল। বাবা আমার মতো এই পুঁচকে ছেলেকে এত বড় সংসারে একা ছেড়ে গেলে বাবা? আমি আজকাল বড্ড ক্লান্ত হয়ে গেছি বাবা। জীবনের একটা বছর তোমাকে না দেখে কাটিয়ে দিয়েছি আমি।

সত্যি ভাবতে বড় অবাক লাগে। জানিনা কীভাবে সময় এত দ্রুত ক্ষয়ে যায় বাবা। সবকিছু যদি ক্ষণিকের জন্য উল্টো হয়ে যেত, খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেতাম। কী ফিরে পেতাম জানি না, তবে তোমাকে আবারও ফিরে পেতাম ঠিকই বাবা। ফিরে পেতাম সেই সোনাঝরা আনন্দের দিনগুলো। বুকের পাঁজরে আটকে রাখতাম তোমায় বাবা। যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ বাবা।

জানি না জীবন নামের অংক খাতায় আর কত বিয়োগ হবে। তবে তোমাকে হারানোর পরে মনে হয়েছিল দুনিয়াটা বড়ই নিষ্ঠুর একটা জায়গা বাবা। পৃথিবীতে যুগে যুগে একজন মহৎ মানুষের আবির্ভাব ঘটে। আমার চোখে আমার বাবা তাদের একজন। যিনি সারা জীবন কল্যাণ করেছেন মানুষের। অনেক মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। যিনি জীবনে কষ্ট করেছেন কিন্তু কখনো কাউকে কষ্ট দেননি। কখনো বিচ্যুত হননি নীতি ও আদর্শ থেকে। সগৌরবে পাড়ি দিয়েছেন জীবনের ৯০ টি বছর।

সুখী মানুষের কাছে ৯০ বছর হয়তো কিছুই না। কিন্তু আমার বাবা জীবনে ৯০ বছরের প্রতিটি মুহূর্ত সংগ্রামের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন। গড়ে গেছেন এক বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাস। আমার লেখনীর মাধ্যমে তার জীবনী বা তাকে সম্পূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলার স্পর্ধা আমার নেই। কোনো কালে হবে কিনা জানি না। বাবার বিবেক আর তার দেখানো পথে হাঁটছি অবিরাম। জানি না এই পথের শেষ আছে কিনা। যদি বা শেষ না হয় এই পথের, ক্ষতি নেই। জীবন তো চলবেই জীবনের মতো। ভয় কী, বাবার আশীর্বাদ আমার সঙ্গেই আছে। বাবা, তোমায় বুকে ধারণ করেই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেব। তুমি যেখানেই থাকো ভীষণ ভালো থেকো বাবা। মহান রাব্বুল আলামিন দান করুন আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম।

আমার বাবার চলাফেরায় কেউ যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিবেন। আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। (আমিন)

সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১

জকিগঞ্জে বইছে নির্বাচনী আমেজ, প্রার্থীদের মাধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সোমবার (১১ জানুয়ারী) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটে রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের তাঁর কার্যালয়ে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেন।

জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন পেয়েছেন নৌকা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র ইকবাল আহমদ তাপাদার ধানের শীষ, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ জগ পেয়েছেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক (পদত্যাগী) বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আহাদ নারিকেল গাছ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মালেক ফারুক পেয়েছেন লাঙল, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা পেয়েছেন চামচ, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান পেয়েছেন মোবাইল, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফরুল ইসলাম পেয়েছেন হেঙ্গার প্রতীক।

এছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩টি ওয়ার্ডে ৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর বিভিন্ন প্রতীক পেয়েছেন।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন। ফলে এদিন থেকেই প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করেছেন। ফলে জকিগঞ্জ পৌরসভাজুড়ে বইছে নির্বাচনী আমেজ। উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পৌর এলাকা জুড়ে। 

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারী জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

সিলেটে ভিলেজ ডাক্তার কমিউনিটি (ভিডিসি)'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: সারাদেশের গ্রাম ডাক্তারদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের দাবী আদায়ের লক্ষে সিলেট বিভাগের সকল পল্লী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রাথমিক চিকিৎসক নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিলেজ ডাক্তার কমিউনিটি (ভিডিসি) সিলেট বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় নুরজাহান হাসপাতাল দরগাগেইট, সিলেট এর হলরুমে অনুষ্টিত হয়।

সিলেট সরকারী ইউনানী-আয়ূর্বেদিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডাঃ আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও ডাঃ বেলাল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রান ডেভোলাপমেন্ট সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারী ডাঃ গাউসুল আজম, সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ নাসিম আহমেদ, প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ডাঃ আনম রুস্তম আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রান ডেভোলাপম্যান্ট সোসাইটির পরিচালক ডাঃ মোঃ সাফিনুর রহমান, কোষাধক্ষ্য রেজাউল করীম রেজা, ডাঃ আলী আহমদ, ডাঃ আব্দুল জব্বার রাজু, ডাঃ হযরত আলী, ডাঃ মুজাহিদ মিয়া, ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান, ডাঃ মোস্তফা আহমদ আজাদ, ডাঃ মোঃ জালাল উদ্দিন, ডাঃসুরঞ্জিত দাশ, ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনুষ্টানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা শহীদুল আলম, গীতা পাঠ করেন দিপন বিশ্বাস। উক্ত মতবিনিময় সভায় পল্লী চিকিৎসক অধিকার আদায়ে ১৩টি প্রস্তাবনা পেশ করেন মুহা. হযরত আলী।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে "বিওআরসি" সিলেট জেলার শোক

হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অনলাইন রিপোর্টার্স ক্লাব সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ।

এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আজিজ আহমদ সেলিম ‘সিলেটের সাংবাদিক অঙ্গনের অভিভাবক ছিলেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে তিনি আমাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন, আমাদের কর্মে প্রেরণা যোগাবেন। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটে সাংবাদিকতার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

আজিজ আহমদ সেলিমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অনলাইন রিপোটার্স ক্লাব জেলার নেতৃবৃন্দ।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে সিলেটের গনমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজিজ আহমদ সেলিম রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত পৌনে নয়টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

তিনি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে সিলেট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সিলেট নগরীর মজুমদারী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

জামেয়া মাদানিয়া যে সব সূর্য সন্তাদের নিয়ে গর্ব করে সিরাজী (রহঃ) তাদের মাধ্যে অন্যতম


হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: আল্লাহর জমিনে আল্লাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠার সাধনা ছিল যার আজীবন, দ্বীনি আন্দোলনের এক সিপাহসালার মাও. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী ছিলেন, একজন আদর্শবান, সৎ, আমানতদার ও পরোপকারী আলেমে দ্বীন। হযরতের ইন্তেকালে আমরা জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসার পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক ও ছাত্র সকলেই গভীরভাবে শোকাহত।

জামেয়া মাদানিয়া যে সব সূর্য সন্তাদের নিয়ে গর্ব করে, মরহুম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (রহঃ) তাদের মাধ্যে অন্যতম। তিনি আজন্ম প্রিন্সিপাল (রহঃ) এর নেতৃত্বে খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। হাস্যউজ্জল মায়াবী চেহারার কর্মী বান্ধাব নেতা মাও. সিরাজীর অভাব রয়ে যাবে যুগ যুগান্তর, জামেয়া মাদানিয়া আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার সিলেটের প্রাক্তন ছাত্র ও জামেয়া মাদানিয়ার মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগরের সাবেক সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (রহঃ) কে।

আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাদ জোহর জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা মসজিদে মাও. সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইসালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে। ইসালে সাওয়াব অনুষ্টানে মাও. সিরাজী (রহঃ) জীবন ও কর্ম বিভিন্ন দিক আলোচনাকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন, জামেয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা সামীউর রাহমান মুসা ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।

মাও. সিরাজী (রহঃ) জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা এবং ইসালে সাওয়াব মাহফিল অংশগ্রহন করেন, জামেয়া মাদানিয়ার সদরুল মুদারিরিসিন মাওলানা আব্দুস সোবহান (দা.বা.), জামেয়া মাদানিয়ার শিক্ষা সচিব মাওলানা মুফতি শফিকুর রহমান, সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আশিকুল ইসলাম, জামেয়া মাদানিয়া সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা কারী মোশতাক আহমদ, মাওলানা আব্দুস সালাম, সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন, মাওলানা জামিল আহমদ, মাওলানা আব্দুল খালিক, মাওলানা আব্দুর রহমান ইউসুফ, জামেয়ার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, প্রাক্তন ছাত্র মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, মাওলানা বদরুল আলাম, মাওলানা আমিন আহমেদ রাজু প্রমুখ।